আজ থেকেই দুধে হরলিক্স নয় ফলমূল মেশান!

0

মল্ট (পানিতে ভিজানো যে বার্লি বা অন্য শস্যদানা অঙ্কুরোদগমের পর ব্যবহারের জন্য শুকানো হয়) বেভারেজ, বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয়, সম্পূরক খাবারের জনপ্রিয়তা ভীষণভাবে বাড়ছে। এই মল্ট খাবারগুলো পুষ্টিকর খাবারের স্থান দখল করে নিচ্ছে। অসচেতন মায়েরা গরুর দুধের সাথে অথবা গরম পানিতে এসব মিশিয়ে মিষ্টতা বৃদ্ধি করে আদরের সোনামনিদের মুখে তুলে দিচ্ছে। আর মিষ্টি স্বাদের জন্য বাচ্চারাও খুবই মজা করে পান করছে।

মল্ট দ্বারা তৈরিকৃত পানীয় এবং সম্পূরক খাবারের মধ্যে রয়েছে হরলিক্স, কমপ্লান, বুস্ট, প্রটিনেক্স, পেডিয়াসিউর, বর্নভিটা ইত্যাদি। আজকাল প্রায় প্রতিটি বাসায় এসব পাওয়া যাচ্ছে। আর এসব খেয়ে নাকি বাচ্চারা বয়স ও বুদ্ধিতে তরতর করে বেড়ে উঠছে! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সত্যিই কি তাই? এখন জানব সত্যতা:

মল্ট পানীয় এবং সম্পূরক খাদ্য সম্পর্কে কিছু জানা অজানা তথ্য

  • এই সকল পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি ব্যবহৃত হয়! এমনকি এগুলোর অধিকাংশগুলোতে চকলেটও থাকে। এ ধরনের উপাদান আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
  • ক্ষতির মধ্যে একটি হচ্ছে মুখস্বাস্থ্য নষ্ট হওয়া। যখন অতিরিক্ত চিনি খাওয়া হবে তখন মুখে ব্যাকটেরিয়া জন্মাবে। যেগুলো পরবর্তীতে দন্তক্ষয়, ও ক্যাভিটির সৃষ্টি করবে।
  • এতে অতিরিক্ত চিনি থাকায় তা তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি যোগালেও পরবর্তীতে অবসাদ ও অলসতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আপনি ফলমূল থেকেও শক্তি পাবেন। তাই মল্ট অথবা সম্পূরক খাদ্য কেন গ্রহণ করবেন?
  • এছাড়াও মল্ট জাতীয় পানীয় এবং সম্পূরক খাবারকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে প্রিজারভেটিভ ব্যবহৃহ হয়। সাথে ব্যবহৃত হয় কৃত্রিম রং। যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
  • ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত হয় যে, এ ধরনের প্রিজারভেটিভ ও কৃত্রিম রং বাচ্চাদের আচরণের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এটি স্মৃতির উপরও প্রভাব ফেলে এবং মনোযোগ ও বিচক্ষণা কমিয়ে দেয়!
  • একথায়, স্বাস্থ্যবান শিশুসহ সকলের অবশ্যই এসব এড়িয়ে চলা উচিৎ।

মল্ট ছাড়াই দুধকে মিষ্টি করার উপায়

একথা ঠিক যে, বাচ্চারা মিষ্টি ‍দুধ বেশি পছন্দ করে। তাই মল্ট ছাড়াই দুধ মিষ্টি করার কিছু উপায় বলছি-

  • দুধে ফলমূল অথবা প্রাকৃতিক ফলের পাল্প যুক্ত করুন।
  • ফলের সাথে দুধকে ব্লেন্ড করে দুধের শরবত তৈরি করুন।
  • কিছু জাফরান যুক্ত করতে পারেন।
  • এতে দারুচিনি যুক্ত করলে ঘ্রাণ অনেক ভাল আসবে।
  • এগুলো ছাড়াও আপনি চাইলে কিছু শুকনো ফল যেমন- খেজুর, কিশমিশ মেশাবেন।

পরিশেষে, আপনার বাচ্চাকে বেশি বেশি তাজা ফলমূল ও শাক-সবজি খাওয়াবেন। ব্যাগে করে হরলিক্স, কমপ্লান নিয়ে ঘোরাঘুরি করবেন না। মনে রাখবেন এতে বাচ্চারা বয়স ও বুদ্ধিতে তরতর করে বাড়বে না বরং কমবে। তাই বাচ্চাকে দুধের সাথে হরলিক্স, কমপ্লান না খাইয়ে ফলমূল খাওয়ান।

Share.

Leave A Reply