মৃত ঘোষণার ছয় ঘণ্টা পর কেঁদে উঠল শিশুটি

0
চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার ছয় ঘণ্টা পর চিৎকার করে কেঁদে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে ফরিদপুরের এই শিশু।

চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছিলেন এক নবজাতককে। দাফন করার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কবরস্থানে। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর যখন কবর দেওয়ার জন্য শিশুটিকে নামানো হচ্ছিল ঠিক তখন কেঁদে ওঠে শিশুটি।

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরে। মৃত ঘোষণার ছয় ঘণ্টা পর শিশুটির বেঁচে ওঠার এই ঘটনাকে ‘মিরাকল’ বা আলৌকিক বলে আখ্যা দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম মিয়া তার ছেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজনীনকে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিজিয়া আলমের তত্ত্ববাধানে তাঁকে ভর্তি করা হয়। তবে ওই মুহূর্তে ড. রিজিয়া আলম সেবা না দিয়ে অন্য রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য চলে যান।

এ বিষয়ে আবুল কালাম মিয়া সাংবাদিকদের জানান, ভর্তি করার পর তাঁর পুত্রবধূ প্রসব বেদনায় চিৎকার করতে থাকলেও এগিয়ে আসেননি ডা. রিজিয়া আলম। বার বার চিকিৎসককে ডাকা হলে সিট নেই বলে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর চিৎকারে কান না দিয়ে অন্য কাজে চলে যান ডা. রিজিয়া। পরে স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসকদের কক্ষে একাই কন্যা সন্তান প্রসব করেন নাজনীন।

স্বজনরা জানান, অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে থেকে বেরিয়ে রিজিয়া আলম প্রসূতির কান্না শুনে এগিয়ে এসে নবজাতককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর শিশুটিকে একটি কাগজের বাক্সে ভরে লাশ দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের চলে যেতে বলেন।

গত রাতেই নবজাতকটিকে কবর দেওয়ার জন্য শহরের আলীপুর কবরস্থানে নেওয়া হয়। তবে সেই সময় কবরস্থানে কবর দেওয়ার মতো কেউ না থাকায় আজ ভোরে কবর দেওয়া হবে বলে কাগজের বাক্সটি রেখে দেন কবরস্থানের ইনচার্জ বিল্লাল শেখ।

শিশুটির চাচা মোশাররফ হোসেন জানান, আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নবজাতকটিকে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় দায়িত্বরত মৌলভী কবরে শোয়ানোর জন্য বাচ্চার মাথা কোনদিকে তা দেখতে বাক্সটি খোলেন। এ সময় সে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। দ্রুত তাকে ওই শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁকে ইনকিউবিটরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ডা. রিজিয়া আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত রাতে ওই নবজাতকের নাড়ির স্পন্দন (পালস) না পেয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে ভোরে সেই শিশুটিকেই জীবিত দেখে অবাক হয়েছেন বলে জানান তিনি। এটিকে একটি মিরাকল বা আলৌকিক ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানে নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে বলেও জানান চিকিৎসক।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেন ডা. রিজিয়া আলম। তিনি যথাযথ চিকিৎসা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।

Share.

Leave A Reply