সন্তানকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন নিজেই! কোকাকোলায় চিনির পরিমাণ ১০ চামচ!

0

আপনার সন্তানকে দৈনিক কত চামচ চিনি খেতে দেন? সঠিক মাপ হয়তো আপনার জানা নয়। বারবার বিভিন্ন গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত হচ্ছে যে, কোন শিশুকে এক দিনে ৬ চামচের বেশি চিনি খাওয়ানো ক্ষতিকর। আপনি হয়ত বলবেন, কই, এত বেশি চিনি তো আমার সন্তানকে খাওয়াই না। তবে আর চিন্তা কি!

এবার তবে একটু অন্যভাবে ভাবুন। এই লেখা পড়ুন আর জানুন আপনার সন্তান যে খাবারগুলো খাচ্ছে তার চিনির পরিমাণ দৈনিক কত চামচ?

৬ চামচ চিনি কতটুকু? জানেন কি এক ক্যান কোকাকোলাতেই রয়েছে প্রায় ১০ চামচ সমতুল্য চিনি! ছোট একটি চকলেট বারেই রয়েছে ৬ চামচ পরিমানের চিনি। চলুন শিশুদের প্রিয় কিছু খাদ্যের চিনির পরিমাণ জেনে নেওয়া যাকঃ

স্নিকার্সঃ ৬.৭৫ টেবিল চামচ, মিল্কি ওয়েঃ ৮.৭৫ টেবিল চামচ, ৩টি মাস্কিটির্সঃ ১০ টেবিল চামচ, মিল্ক চকোলেটঃ ৬ টেবিল চামচ, টুইক্সঃ ৬ টেবিল চামচ, কোকাকোলাঃ ৯.২৫ টেবিল চামচ, পেপসিঃ ৮.৭৫ টেবিল চামচ, রেড বুলঃ ৬.৯ টেবিল চামচ, স্প্রাইটঃ ৮.২৫ টেবিল চামচ, মাউনটেইন ডিউঃ ১১.৫ টেবিল চামচ।

অবাক হচ্ছেন! এগুলো কিন্তু আমার মনগড়া কথা নয়। বরং গবেষণায় পরীক্ষা করে বের করা তথ্য। এবং প্রতিটির হিসাব মাত্র ১ ক্যান পরিমাণের জন্য।

গবেষণায় এ কথাও বলা হয়, ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের বাড়তি চিনি খাওয়া মানেই তাদের দেহের ক্ষতি করা। ১ টেবিল চামচ মানে ৪গ্রাম। সেই হিসেবে ৬ চামচ চিনি বলতে ২৪গ্রাম চিনিকে বোঝানো হয়। ক্যালরির হিসেবে যা প্রায় ১০০ ক্যালরি।

দ্যা ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অফ হেলথ সম্প্রতি জানায়, চার থেকে আট বছরের শিশুদের জন্য দৈনিক ৩ টেবিল চামচ চিনি যথেষ্ট। নয় বছর থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক যেকোন মানুষেরই দৈনিক ৮ চামচের বেশি চিনি কোন অবস্থাতেই খাওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞ দল বলেন যে তারা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন যে যে সকল শিশুরা দৈনিক পরিমাণের চেয়ে বেশি চিনি খাচ্ছে তারা অন্যদের থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। আর ফলাফল হিসেবে বেড়ে যাচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর পরিমাণ। ভেতর থেকে কমে যাচ্ছে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমরা বড়রাই আদর করে শিশুদের হাতে এসব ক্ষতিকারক জিনিসগুলো তুলে দিচ্ছি। যেখানে প্রতি সপ্তাহে একটি শিশু এক ক্যান সোডা ড্রিংকস খেতে পারে সেখানে আমরা প্রায় প্রতিদিনই তাদের হাতে বিভিন্ন সোডা ক্যান, চকলেট বার তুলে দিচ্ছি। নিজের বিবেককে এবার জাগ্রত করুন। নিজের সন্তানের ক্ষতি কেন নিজেই করছেন?

Share.

Leave A Reply