অভাবের তাড়নায় ৩৫ হাজার টাকায় বুকের ধন কন্যাশিশুকে বিক্রি করে দিলেন মা !

0

বাবা গোলাম মোস্তফা অসুস্থ, কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। আর তাই মা অন্যের বাড়ীতে ঝি‘র কাজ করে সংসার চালান। সংসারের যাতাকলে আগের তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে হতদরিদ্র মা বাবার চিন্তার কোন অন্ত ছিলোনা। অভাবের তাড়নায় পিস্ট হয়ে নিজেরাই ছিলেন বিব্রত। উপরন্তু চলতি মাসের শুরুর দিকে জন্ম হয় আরও একটি শিশুর। মাথায় বাজ পড়ে হতদরিদ্র বাবা মায়ের।

কি হবে আগন্তুকের ভবিষ্যৎ ? বাকি সন্তানদের লালন পালনেই হিমশিম খাওয়া বাবা মা তাই বুকে পাথর বেঁধে সিদ্ধান্ত নেন শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার।

আর সেই লক্ষেই নিজের বুকের ধন ২২ দিনের কন্যাশিশু বন্যাকে তুলে দেন অন্য একজনের হাতে। সন্তান বিনিময়ে লেনদেন হয় ৩৫ হাজার টাকার। এমন এক মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বারবান্দা গ্রামে।

সেই সন্তানের মা রেবি খাতুন জানায়, জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাথরের চর এলাকায় দেলোয়ার ও পানফুল দম্পতির কাছে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে বন্যাকে বিক্রি করে দিয়েছি। সেই টাকা দিয়ে অন্যের ভিটায় একটি ঝুপড়ি ঘর তুলছি মাথা গোঁজার জন্যে।

৩০ আগস্ট মঙ্গলবার ওই হতভাগী মা রেবি খাতুন বুকের ধন বন্যাকে বিক্রি করে এখন বুকফাটা কান্নায় ব্যকুল হয়ে পড়েছেন। বেবি খাতুন ৪সন্তানের মা। তার অন্য সন্তানরা হলেন, মরিয়ম (৮), জিহাদি (৬), মৌসুমী (৪) ও বন্যা। সন্তানদের মুখে খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই এমন অবস্থায় তিনি তার পেটের সন্তানকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

রেবি খাতুন আরও বলেন, কি করুম, অভাবের তাড়নায় চেয়ারম্যান মেম্বার ও এমপি সাহেবের কাছে গিয়ে কিছুই পাই নাই। তাই বাধ্য হইয়া বন্যাকে বিক্রি করে দিয়েছি। যারা নিছে হেরা ভালা মানুষ। আমার বন্যা সুখেই থাকবো। তবে আমার রাতে গুম হয় না। বুকটা খচ্ খচ্ করে। ট্যাকার জন্যি মাইয়াডারে বেইচ্চা দিলাম?”

এদিকে এলাকাবাসী জানান, উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম উত্তর বারবান্দা এলাকার নবিন মিয়ার বাড়িতে কয়েক বছর ধরে বসবাস করছেন রেবি খাতুন। এছাড়াও ঘরে বৃদ্ধ মা জমেলা খাতুন, স্বামী গোলাম মোস্তাফাসহ পরিবারটির মোট সদস্য সংখ্যা ৭জন। রেবির মা জমেলা খাতুন ভিক্ষাবৃত্তি করেন। রেবি অন্যের বাড়ীতে ঝি‘র কাজ করে সংসার চালান। স্বামী গোলাম মোস্তফা কাজ করতে পারে না।

নবিন মিয়ার স্ত্রী ময়না বেগম জানান, রেবিরা খুবই গরিব। আমাদের জায়গায় ছোট একটা ঘর তুইলা কোনো মতে বাস করছেন।

রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সালু বলেন, ঘটনাটি শুনেছি তবে আসলে খুবই দুঃখজনক।

Share.

Leave A Reply