নারিকেল তেল খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর?

0

চুলের পুষ্টির জন্যই মূলত নারিকেল তেল ব্যবহার করে থাকি আমরা। দক্ষিণ ভারতীয়রা কিন্তু নারিকেল তেলেই সারেন তাদের সব রান্না। আজকাল অনেকেই নারিকেল তেলকে বলছেন ভোজ্য তেলের স্বাস্থ্যকর বিকল্প। কিন্তু কথা হলো, বাস্তবেই নারিকেল তেল কতটা উপকারী?

নারিকেল তেলের আদ্যোপান্ত

বাজারে যেসব নারিকেল তেল পাওয়া যায়, সেগুলো মূলত চুল কিংবা রূপচর্চার ব্যবহারেই উপযোগী। এছাড়া খোলা বাজারে এক ধরনের তেল বিক্রি হয়, যাকে বলে ঘানি ভাঙা নারিকেল তেল, এই তেল খাবার কিংবা অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করছেন এখন অনেকে। সাম্প্রতিক সময় অনেকে দাবী করছেন, নারিকেল তেলে থাকা স্নেহজাতীয় উপাদান স্বাস্থ্যকর, যা নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে এটি স্নেহজাতীয় খাবার হওয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনিক খাবারের তালিকায় নারিকেল তেল না রাখাই ভাল।

“নারকেল তেল খেলে ওজন কমে”

নারিকেল তেলের ভক্তরা অনেকেই দাবী করেন, এতে আছে লরিক অ্যাসিড নামের এক বিশেষ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খুবই ‘স্বাস্থ্যকর’। এটি খেলে খুব দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। তাদের মতে, ফ্যাট ফ্যাটই। স্নেহজাতীয় খাবার ভারী হওয়ায় অল্প খেলেই পেট ভরে গেছে বলে মনে হয়। এদিক থেকে নারিকেলের ফ্যাট আরো ঘন। অর্থাৎ নারিকেল তেলে রান্না করা খাবার আরো ভারী মনে হতে পারে। তবে এটি খেয়ে ওজন কমবে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

“নারিকেল তেল হজমের জন্য ভালো”

এমনও বলা হয়, নারিকেল তেল খেলে হজমে সুবিধা হয়। পেট ফাঁপাসহ হজমের নানা সমস্যার প্রতিকার করে নারিকেল তেল।

কিন্তু এ দাবীও মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নারিকেল তেল স্যাটুরেটেড ফ্যাট হওয়ায় স্নেহজাতীয় পদার্থের অন্যান্য উৎসের চেয়ে একটু ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে, তবে হজমে উপকারের কোনো নজির পাওয়া যায়নি।

“নারিকেল তেল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়”

বলা হয় নারকেল তেলের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরকে লড়তে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে নানা ধরনের প্রসাধনী, যেমন সাবান, লোশন, ক্রিমে ব্যবহার করা হয় নারকেল তেল। সেই দিক থেকে দেখলে চামড়ায় নারিকেল তেল লাগানো যেতেই পারে, তবে দেহের ভেতর থেকে এটি রোগ প্রতিরোধ করতে পারে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা।

“নারিকেল তেলে উচ্চ তাপে রান্না করা যায়”

দক্ষিণ ভারতীয় রান্নায় নারিকেল তেলের ব্যবহার হচ্ছে শত শত বছর ধরে। ইদানীং আমাদের দেশেও স্বাস্থ্যসচেতন কেউ কেউ রান্নায় নারিকেল তেল ব্যবহার করছেন। কারণ অনেকের ধারণা, উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলেও নারকেল তেল কখনও পুড়ে যায় না, এছাড়া খাবারের নানা বিষাক্ত উপাদানও বের করে ফেলে।

এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সাধারণত বাড়ির রান্নাঘরে এতোটা উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না হয় না। রেস্তোরাঁয় ডুবো তেলে কিছু ভাজার সময় মাঝে মাঝে উচ্চ তাপ ব্যবহার করা হয়। সাধারণভাবে, হালকা অলিভ অয়েলের মতোই রান্নায় কাজ করে নারিকেল তেল।

ফলাফল

নারিকেল তেলের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক বছর ধরেই। তবে স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিদের কতখানি উপকারে আসতে পারে এই তেল, তা নিয়ে এখনও জোরালো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে অলিভ অয়েল এবং মাছের তেলের নামডাক শোনা যায় সব সময়, বৈজ্ঞানিকভাবেও এই ধারণা প্রমাণিত হয়েছে। তবে একই কথা বলা যাচ্ছে না নারিকেল তেলের বেলায়।

অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম খাবারের তালিকায় যদি মাঝে মধ্যে রাখা হয় কিছুটা নারিকেল তেল, তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ নাও হতে পারে।

Share.

Leave A Reply