অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ঝুঁকি

0

বাঙালি আজকাল মাছের চেয়ে মাংসই বেশি খায়। স্যান্ডউইচ, শর্মা আর নানা ধরনের কাবাবের সমাহার, সেই সঙ্গে মাটন আর বিফ তেহারি খাওয়া চলছে হরদম। আবার ছুটির দিনগুলোতে বাড়িতে একটু গরুর মাংসের ভুনা না হলে চলছেই না। একবার ভাবুন তো, অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার প্রবণতা আপনার স্বাস্থ্যকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে না তো?

চর্বির কারখানা!

গরু কিংবা খাসি—সব প্রাণীর মাংসেই কম বেশি চর্বি থাকে। প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাংস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজন চর্বিও। কিন্তু যখন আপনি অতিরিক্ত মাংস খাচ্ছেন তখন মাংসের সঙ্গে আপনার শরীরে ঢুকছে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট, অন্যদিকে আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সে পরিমাণে কম ঢুকছে, যা পাওয়া যায় মূলত ফলমূল, শাকসবজি এবং ডাল জাতীয় খাবারে। ফলে শরীর হারিয়ে ফেলছে পুষ্টির ব্যালেন্স।

প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট দেহে প্রবেশের কারণে কেবল যে মোটা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে তা নয়, বেড়ে যায় ডায়বেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি।

হতে পারে ক্যান্সারও

মাংস খেতে ভালো লাগে ঠিকই। কিন্তু অতিরিক্ত মাংস কারো পেটেই সয় না। বেশি মাংস খেলে বেড়ে যায় অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি। অস্ট্রেলিয়ার বাওয়েল ক্যান্সার সংগঠনের মতে, সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের বেশি মাংস না খেলে অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।

যা করতে পারেন

চর্বি বাদ দিয়ে মাংস খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত কিছুই শরীরের জন্য ভাল নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে ৫ দিনের বেশি মাংস খাওয়া উচিৎ নয়। মাংস খাওয়ার সময় হামলে পড়বেন না, সংযমী হয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খান। দিনে ৬৫ গ্রামের বেশি মাংস না খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সব সময় মাংসই খেতে হবে এমন কি কোনো কথা আছে বলুন তো? মাংসের বদলে নজর দিন ফলমূল, মাছ, শাকসবজির দিকে। নতুন কোনো রেসিপি ট্রাই করুন, যেখানে মাংস না থাকলেও খেতে হবে দারুণ।

প্রতি বছর অন্তত এক সপ্তাহ মাংস ছাড়া থাকার চেষ্টা করুন, আপনার শরীর আপনাকে ধন্যবাদ দেবে! প্রতি সপ্তাহে দুদিন মাংসের বদলে অন্য কিছু খেয়ে নিন। এই দুদিন পছন্দের রেস্তোরাঁগুলো থেকে একটু দূরেই থাকুন নাহয়!

Share.

Leave A Reply