ভাতকে আর্সেনিকমুক্ত করতে রান্নার নয়া পদ্ধতি

0

আমাদের দেশে মানুষ এ বিষয়টি নিয়ে সচেতন নন। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য বিষয়ে বড় একটি চিন্তা ভাতের মাধ্যমে দেহে আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর খনিজ প্রবেশ করা। তবে নর্দান আয়ারল্যান্ডের এক দল গবেষক ভাত রাঁধার বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একে আর্সেনিক মুক্ত করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।

আমাদের দেশেও বহু এলাকার পানিতে আর্সেনিক রয়েছে। এসব অঞ্চলের খাদ্য শস্যেও আর্সেনিক থেকে যাওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়। বিশেষ করে প্রধান খাদ্য ভাতের সঙ্গে দেহে আর্সেনিক প্রবেশের সম্ভাবনা খুব বেশি। গবেষকরা জানান, যে উপায়ে কফি মেশিনে কফি প্রস্তুত হয়, ঠিক সেই উপায়ে ভাত রান্না করলে চাল থেকে যাবতীয় আর্সেনিক দূর হওয়া সম্ভব।

ভাত রান্নার সাধারণ পদ্ধতি হলো পানিতে চাল দিয়ে তা ফুটিয়ে নেওয়া। এক সময় চাল সেদ্ধ হয়ে ভাত প্রস্তুত হয়। কিন্তু চালে আর্সেনিক থাকলে তা ভাতেও থেকে যায়। তবে চালের মধ্য দিয়ে যদি ক্রমাগত গরম পানির প্রবাহ চালনা করা যায়, তবে চালের আর্সেনিক পুরো দূর হয়ে যাবে। আবার গরম পানির তাপে চালও সেদ্ধ হবে। বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল ‘পিএলওএস ওয়ান’-এ প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়।

 কুইনস ইউনিভার্সিটির প্লান্ট অ্যান্ড সোয়েল সায়েন্স বিভাগের গবেষক অ্যান্ডি মেহার্গ জানান, একটি পাত্রে পানির মধ্যে চাল না ফুটিয়ে যদি চাল পাত্রে রেখে তার একপাশ থেকে একাধারে গরম পানির প্রবাহ ঘটানো যায়, তবে চাল হবে আর্সেনিক মুক্ত। আমরা এক পদ্ধতিতে ভাত রান্না করে সফল হয়েছি। আর্সেনিকের সমস্যা যে সব অঞ্চলে খুব বেশি, তারা একই উপায়ে ভাত রান্না করে আর্সেনিক মুক্ত থাকতে পারেন। তবে এই পদ্ধতিতে ভাত রান্নার জন্যে সুবিধাজনক পাত্র তৈরি করতে হবে

শুধু পানির আর্সেনিকেই নয়, শস্যের আর্সেনিকেও মানুষের একই ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। আর্সেনিকে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা এবং ব্লাডার ক্যান্সার হতে পারে।

সারা বিশ্বে ভাত বহু অঞ্চলের এবং মানুষের প্রধান খাদ্য। তাই এতে আর্সেনিক থেকে গেলে শুধুমাত্র আর্সেনিকমুক্ত পানি খেয়ে লাভ নেই। খাদ্যকেও আর্সেনিক মুক্ত করতে হবে। আর সমাধানে ভাততে আর্সেনিকমুক্ত করতে গবেষণা চালাচ্ছিলেন গবেষকরা।

গবেষণায় আরো বলা হয়, ধানে সাধারণত অন্যান্য শস্যের চেয়ে ১০ গুণ বেশি আর্সেনিক থাকে। কাজেই পানির সঙ্গে ভাতের মাধ্যমেও আর্সেনিক সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রচুর।

Share.

Leave A Reply