ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে পেট ব্যাথা নাকি ভয়াবহ ক্যান্সারের আভাস! (জানুন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর কষ্টের কথা)

0

ঋতুস্রাব, যে কোন মেয়ের জন্যই অতি সাধারণ একটি ব্যাপার এটি। অথচ আমাদের দেশে বা সমাজে ঋতুস্রাবকে যৌনতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মেয়েদের ছোটবেলায়ই শিখিয়ে দেয়া হয় এ ব্যাপার নিয়ে যেন কাউকে কিছু না বলে। এমনকি, ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়কার ব্যাথাও যেন খুব বেশি স্বাভাবিক। আজ তবে মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর জীবনে কষ্টের এক ঘটনা চলুন জানা যাক।

এমি হিটম্যান নামের এক কিশোরী লিভারপুলে থাকে। ২০১১ সালের কথা। এমির বয়স তখন ১৭ বছর। অন্যদের মত এমিরও মাসিক ঋতুস্রাব হত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, প্রচুর পেট ব্যাথা আর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। পেট ব্যাথার কথা মাকে জানালেও, এনির মা ৪৯ বছর বয়সী জিললিয়ান ব্যাপারটিকে তেমন পাত্তা দেননি।

পেটে ব্যাথার পরিমানটা যখন অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায় এবং রক্তক্ষরণের মাত্রাও যখন অত্যাধিক বৃদ্ধি পায় তখন এনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। আল্ট্রাসোনো করে দেখা যায়, ঋতুস্রাবের ব্যাথা নয়, এনি সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার জরায়ুতে বেশ বড় মাপের একটি ক্যান্সার টিউমার রয়েছে।

ডাক্তাররা জানান, তাকে ক্যামোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দিতে হবে, ক্যান্সার জীবাণু থেকে মুক্তি পেতে। তার জরায়ু থেকে কমলা আকৃতির একটি ক্যান্সার টিউমার অপসারণ করা হয়।

এখন এমি হিটম্যান ২২ বছরের তরুনী। পাঁচ বছর পর সে তার এই কষ্টের কাহিনী সবাইকে জানায় ২৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে।

এমি বলে, ‘সেই সময়টা আমি কতটা কষ্ট পেয়েছি তা কেবল আমিই জানি যখন জানতে পেরেছি আমি আর কোনদিনও মা হতে পারবোনা। সবসময় নিজের একটা পরিবারের খুব শখ ছিলো আমার’।

নিজের ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ের কষ্টের করুণ বর্ননা দিতে গিয়ে এমি বলে, ‘আমার সবসময়ই ঐ দিনগুলোতে খুব কষ্ট হত। ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে সেই কষ্টের মাত্রাটা যেন আরো বেড়ে গিয়েছিলো। আমার এত বেশি রক্তক্ষরণ হত যে আমি রাতে ঘুমানোর সময় দু পায়ের মাঝে তোয়ালে নিয়ে ঘুমাতে হত’।

এমি আরো বলেন, ‘একটা ১৭ বছরের মেয়ের জন্য এটা মেনে নেওয়া খুব কষ্টের ছিলো যে তার ভয়াবহ সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তবে আমার পরিবার আমার পাশে ছিলো। আমি ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা আমাকে নতুন একটি জীবন দান করেছেন’।

এমি কষ্ট নিয়েই বলেন, ‘অবশ্যই শিশুদের আমি প্রচন্ড ভালোবাসি। হ্যা, এটা ঠিক যে আমি আর কোনদিন সন্তানের জন্ম দিতে পারবো না বা আমার নিজের কোন সন্তান থাকবে না তবে আশা করি একদিন না একদিন আমি একটি হলেও শিশু দত্তক নিবো’।

বর্তমানে এমি হিটম্যান একটি নার্সারিতে নার্স হিসেবে কাজ করছেন এবং তিনি জানান তিনি রোগীদের সেবা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এমি তার জীবনের করুণ ঘটনা বলে সব নারীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে ক্যান্সারের কোন উপসর্গ দেখা দিলে তা কখনোই উপেক্ষা করবেন না। আমার মত কেউ সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হারাক তা আমি চাইনা’।

সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের উপসর্গগুলো হল-

  • ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে তীব্র পেট ব্যাথা।
  • যৌনমিলনের সময় যোনির চারপাশে ব্যাথা অনুভব করা।
  • স্রাব বিশ্রী গন্ধযুক্ত হওয়া।
  • হাড়ের হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটা।
  • মুত্র নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
  • প্রস্রাবের সময় ব্যাথা পাওয়া।
  • কিডনী ফুলে যাওয়া।

আপনি নারী হলে আজই সচেতন হোন নিজের দেহের ব্যাপারে। সুস্থ থাকাটা সব মানুষেরই কাম্য।

আর আপনি পুরুষ হয়ে থাকলে, আপনার পরিবারের নারী সম্পর্কে খোঁজ রাখুন। রোগের ব্যাপারে লজ্জা নয়, থাকতে হবে সৎ সাহস।

বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি রান্নাঘরে।

Share.

Leave A Reply