ঈদে মাংস খেতে কিছু সতর্কতা

0

কোরবানির ঈদে মাংস খাবেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। যারা সারা বছর রেড মিট বা লাল মাংস এড়িয়ে চলেন তারাও এ সময় একটু শখ করে হলেও এক টুকরো মাংস মুখে দিয়ে ফেলেন। এ সময় যারা হার্ট কিংবা প্রেসারের রোগী তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি একটু বাড়তেই পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনার মেডিসিন, বক্ষব্যাধি ও স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. একেএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘প্রেসার ও হার্টের রোগীর জন্য মাংস পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়। তারপরও যদি খেতে হয় তাহলে চর্বি ফেলে দিয়ে খেতে হবে। চর্বি ফেলে দেয়া মানে ফেলে দেয়া। আমাদের দেশে অনেক জায়গাতেই মাংস থেকে চর্বি আলাদা করার পর সেটা আবার পরে খাওয়া হয়। এভাবে খাওয়া আরও ক্ষতিকর।’

 কী হবে মাংস খেলে?

 গরুর মাংস মানেই প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট বা চর্বি এবং উচ্চমাত্রার প্রোটিন। সাধারণত কারও বয়স ত্রিশের নিচে হলে গরুর মাংস খাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই বললেই চলে। তবে বয়স এর বেশি হলেই যত্তসব সমস্যা। মাংসের উচ্চমাত্রার প্রোটিন কিডনি রোগীদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া গরু, মহিষ, ছাগল ও খাসির মাংসে যে পরিমাণ ফ্যাট থাকে তাতে হৃদরোগী ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশ ঝামেলায় পড়ে যাবেন।
মাংসে থাকা ফ্যাটের কারণে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। ফলে রক্তনালী চিকন হয়ে রক্তচাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে প্রেসারও। এছাড়া মাংসের চর্বি হার্টের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দেয় এবং শরীরের রক্তনালীগুলোতে জমতে থাকে। ধীরে ধীরে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকসহ কোলন ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

 কীভাবে খাব?

 চর্বি আলাদা করার বেশ কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। কাঁচা মাংস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে চর্বি ভেসে ওঠে। এছাড়া মাংস কাটার সময় ছোট ছোট করে কাটলে চর্বি খুলে আসার সম্ভাবনা খুবই বেশি। ছোট পিস করে কাটলে চর্বি হাতে খুলতেও সহজ হয়। তবে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, মাংস ফ্রিজে রেখে দেয়া। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় চর্বি চাকা চাকা হয়ে যাওয়ার পর খুব সহজেই মাংসের গা থেকে খুলে আনা যায়। এছাড়া রান্নার পর ওপরে ঝোলের সঙ্গে ভেসে থাকা তেলটুকু ফেলে দিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারেন।
কোনো মাংস থেকে চর্বি খুলে আনা না গেলে রান্নার সময় অতিরিক্ত সবজি ব্যবহার করুন। অনেকেই কোরবানির মাংস নানা রেসিপিতে রান্না করেন। মনে রাখতে হবে, মাংস সাধারণভাবে রান্নার চেয়ে কাবাব বা গ্রিল করে খাওয়াতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। তবে চিরন্তন পরামর্শ হচ্ছে, পরিমাণমতো খাওয়া-দাওয়া করা। এই একটি নিয়মই আপনার সব ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে।
 ইদানীং কোরবানির গরুকে মোটাতাজা করার জন্য স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হয়। এ গরুর মাংসও মানবদেহের জন্য সমান ক্ষতিকর। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. খুরশীদ জাহান বলেন, ‘গরুর মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সেদ্ধ করে নিতে হবে। ভালোভাবে সেদ্ধ না করলে কোরবানির পশু মোটাতাজা করার জন্য ব্যবহার করা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং ইনজেকশনের কারণে পাকস্থলির ক্যান্সার হতে পারে।’

 সতর্কতা

 সব সময়ের জন্যই ভূরিভোজ এড়িয়ে যাবেন। তবে যদি কখনও নিজের জিভটাকে সামলাতে না-ই পারেন তাহলে পেট ভরে খাওয়ার পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ‘অরলিস্ট্যাট’ জাতীয় কোনো একটা ট্যাবলেট খেয়ে ফেলতে পারেন। এ ট্যাবলেট আপনার শরীরের কোলেস্টেরল কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। আঁশযুক্ত খাবার বেশি বেশি খান।
খাবারের তালিকায় সালাদ, সবজি ও লেবু আগে থেকেই নির্ধারিত রাখুন। এগুলো আপনার হজমে সহায়তা করবে। অনেকে কোরবানির দিনগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কোমল পানীয় পান করেন। মনে রাখবেন, কোমল পানীয় কখনোই হজমের সহায়ক নয়। এর বদলে বরং নানান আঁশযুক্ত খাবার আপনার দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় যুক্ত করেন। কোরবানির এই কয়েকটা দিন যে কোন সমস্যায় ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করুন।
কোনো রকম অসুস্থবোধ করলেই ডাক্তারকে জানান। এছাড়া ঈদে কোরবানির মাংস খাওয়ার এক কী দুই সপ্তাহ পর একটা মেডিকেল চেকআপ করিয়ে শরীরের যন্ত্রাংশ ঠিকমতো কাজ করছে কিনা জেনে নিতে পারেন।

 

Share.

Leave A Reply