ঈদে হার্টের রোগীরা কী খাবেন, কী খাবেন না

0

ঈদে একটু বেশি খাওয়া-দাওয়া না চললে কি আর ঈদ উৎসব জমে? তা সত্বেও হার্টের রোগীদের কিন্তু একটু রয়ে-সয়ে খেতেই হবে। নিজের জন্যই এটা প্রয়োজন। একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তা না হলে নিজের আনন্দতো মাটি হবে সেই সাথে প্রিয়জনদের আনন্দও নষ্ট হবে। ঈদের মধ্যে অনেকেই একটু বেশি সাধাসাধি করবে। আপনি যদি হার্টের রোগী হযে থাকেন তাহলে বিনয়ের সাথে ‘না’ শব্দটি বলতে শিখুন।

হার্টের রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে কলেস্টেরল বেশি থাকে। রক্তচাপ কমানোর জন্য ওষুধ খেতে হচ্ছে। আবার কলেস্টেরল কমানোর ওষুধ চলছে সাথে। এহেন রোগীদের যদি ঈদ উৎসবে দুই বেলা অথবা তিন বেলা পোলাও, বিরিয়ানী, রেজালা অথবা গরু-খাসির ভোনা খেতে হয় তাহলে হয়তো মজারই হবে ঈদ উৎসবটা। খাওয়ার পর অনেকেরই আপাতত: কোনো সমস্যা নাও হতে পারে। প্রতিক্রিয়া হবে দীর্ঘ মেয়াদী। আবার যাদের কলেস্টেরলও বেশি আবার উচ্চ রক্তচাপ সর্বদাই ১৩০-১৪০ এর বেশি থাকে। তাদের জন্য সাথে সাথেই ঝামেলাটা বাড়তে পারে।

গরুর গোশত দ্রুত রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। সেই সাথে পোলাও-বিনিয়ানীর সাথে যদি আচার থাকে। তাহলেতো কথাই নেই। আচারে একটু লবণও থাকে। আপনার রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ লবণ একটু বেশি খেতে পছন্দ করেন। হার্টের রোগী অথবা সুস্থ ব্যক্তি সকলের জন্যই লবণ পরিহার করা উত্তম। হার্টের রোগীদের এ খাবারগুলো এড়িয়ে চললে ঈদ উৎসব মাটি হবেনা বলে চিকিৎসকরা আশা করছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন হার্টের রোগীরা গোশত পরিহার করে মাছ খেতে পারেন। মাছের তেলটা ক্ষতিকর নয়। মাছের মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ নামক এক ধরননের উপাদান যা হার্ট ভাল রাখে। এতে থাকে ‘রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয়’ এমন এক উপাদান। ফলে এটা শরীরে বিনা বাধায় রক্ত চলাচলে সহায়তা করে। মাছের মধ্যে ইলিশ খাওয়া যেতে পারে। এর তেল হার্টের জন্য ভাল। টোনা মাছের কথাও বলেছেন চিকিৎসকরা। এটা আমাদের দেশে পাওয়া যায়। সার্ডিন মাছ খাওয়া যেতে পারে। সার্ডিন ইলিশ মাছের মতো দেখতে কিন্তু ইলিশের চেয়ে ছোট। এর স্বাদ ইলিশের মতো কিছুটা তবে ইলিশ নয়।

হার্টের রোগীরা খেতে পারেন সবুজ অথবা সতেজ শাক-সবজি। শাক-সবজির মধ্যে থাকে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল। শাক-সবজি শরীরে শক্তি যোগাবে এবং খনিজ পদার্থের অভাব পুরণ করবে। এতে নেই কোনো চর্বি। উচ্চ রক্তচাপও বাড়বেনা।

আখরোট, বাদাম, কাঠ বাদামও খাওয়া যেতে পারে। এগুলোতে ভাল ধরনের চর্বি রয়েছে। আখরোটে মাছের মতো ওমেগা-৩ রয়েছে। এছাড়া স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি অথবা ব্ল্যাকবেরি (আমাদের দেশের জাম) খাওয়া যেতে পারে। এগুলোতেও হার্টের জন্য উপকারী উপাদান রয়েছে।  ফ্যাট (চর্বি) ফ্রি অথবা কম ফ্যাট যুক্ত ইউগার্ট (আমাদের দেশের মাঠা-ঘোল) খাওয়া যেতে পারে। এগুলো হার্টের রোগীদের জন্য বেশ উপকারী বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. ডি এম ফারুক ওসমানী।

Share.

Leave A Reply