গাজীপুরের অত্যন্ত চমকপ্রদ ৯ টি রিসোর্ট, কিভাবে যাবেন, কত ভাড়া, কোথায় থাকবেন (ভিডিওসহ) বিস্তারিত!!!

0

১১ একর উঁচু-নিচু জমিতে সবুজে ঘেরা এই রিসোর্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো জলাশয়ের ওপর নির্মিত অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত ঝুলন্ত সাঁকো আর এর পিলার ও বেলকনিতে খোঁদাই করা বিভিন্ন কারুকাজ- যা আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বিশাল এক জলাশয়ের মাঝখানে ঝুলন্ত সাঁকো থাকায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে বেশি। জলাশয়ের পূর্ব পাশে রয়েছে একটি দ্বিতল রেস্টুরেন্ট।

রেস্টুরেন্টটির নাম রাখা হয়েছে মেজবান। শুধু তাই নয়, কৃত্রিমভাবে একটি লেক নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে বর্ষা বা শুষ্ক সবসময়ই পানি থাকে। আর এই লেকের পানিতে বিভিন্ন জাতের মাছের বিচরণ দেখা যায়।

রয়েছে উন্নতমানের কয়েকটি কটেজ। কটেজগুলোর আকর্ষণও কম নয়। কটেজগুলো এমনভাবে নির্মিত, দেখতে মনে হয় যেন ইতালির রোম শহরের একটি সাজানো গ্রাম। কটেজগুলোর ঠিক সামনে দিয়ে বয়ে গেছে লেক। রয়েছে একটি সুইমিং পুল আর কনফারেন্সের জন্য একটি হলরুম। ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে সার্বক্ষণিক সেবা দেয়ার জন্য।

দর্শনার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী ভাড়ার তারতম্য রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্যও ভাড়া দেয়া হয়। এখানে রয়েছে উঁচু পাহাড়। যার নিচে এক পাশে রাক্ষসের হাঁ করা মুখমণ্ডল, উপরে সুন্দরী ললনার কোলে জলভর্তি কলসি এবং পাহাড়ের সামনে দু`পাশে দুটি করে জিরাফ ও হরিণের প্রতিকৃতিসহ এমন অনেক প্রতিকৃতি রয়েছে।

ভাড়া : দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা মোড়ে নামতে হবে। পরে চন্দ্রা মোড় থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে কালামপুর গ্রামে সোহাগপল্লীর অবস্থান।

`ড্রিম স্কয়ার`

গাজীপুরের মাওনার অজহিরচালা গ্রামে `ড্রিম স্কয়ার` নামে বিশালাকৃতির বেসরকারি রিসোর্ট রয়েছে। ১২০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট। এর প্রধান আকর্ষণ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজের সমারোহ। ড্রিম স্কয়ারের আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে তেলের ঘানি, ডেইরি ফার্ম, মৎস্য হ্যাচারি, কম্পোস্ট সার প্লান্ট, বায়োগ্যাস প্লান্ট। ড্রিম স্কয়ারের আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো রেস্টুরেন্টের খাবারের সবজি এর ভেতরেই চাষাবাদকৃত, যা সম্পূর্ণ সার ও কীটনাশকমুক্ত।

রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বিশালাকৃতির কয়েকটি লেক। রয়েছে ১৬টি ছোট-বড় পুকুর। ভেতরে সবুজবেষ্টিত বাগানের মাঝখানে রয়েছে জাতীয় মাছ ইলিশের দুটি প্রতিকৃতি। আর বিভিন্ন গাছে রয়েছে বানরের প্রতিকৃতি।

এখানে নানা প্রজাতির পাখির অভয়াশ্রম রয়েছে। ড্রিম স্কয়ারে প্রতি বছর শীতের সময় অতিথি পাখির মেলা বসে। আছে একটি রেস্টুরেন্ট, রয়েছে ওয়াই-ফাই সুবিধা। এখানে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা।

এখানে ২০টি উন্নতমানের কটেজ রয়েছে। এখানে টুইন কেবিন, টেরাস, অনার্স, গ্রিন, ইকো এমন বিভিন্ন মানের কটেজ রয়েছে।

ভাড়া : পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ৫০ জনের মধ্যে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা। ৫০ জনের অধিক হলে তুলনামূলক জনপ্রতি কম হয়। ডিলাক্স কটেজ ভাড়া ৪০ হাজার আর রেগুলার কটেজ ভাড়া ৬ হাজার ৩২৫ টাকা।

যেভাবে যাবেন : নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে মাওনা যেতে হবে। মাওনা থেকে পশ্চিমের রাস্তা দিয়ে একটু সামনে গিয়ে উত্তরে সাড়ে ৫ কিলোমিটার যেতে হবে। সেখানে গেলেই চোখে পড়বে ড্রিম স্কয়ার। যা গাজীপুর জেলার সর্ব উত্তরে অবস্থিত।

`রাঙামাটি`

গাজীপুরে দিন দিন রিসোর্টের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটকদের ভিড় বাড়ার কারণেই গাজীপুরের রিসোর্টগুলোর দিকে মানুষ বেশি ঝুঁকছে। তেমনই একটি রিসোর্টের নাম `রাঙামাটি`। রাঙামাটি নাম শুনে হয়তো অনেকের মনে হবে এটি পার্বত্য এলাকার রাঙামাটি জেলা। আসলে এই রাঙামাটি সেই রাঙামাটি নয়, এটি ঢাকার পাশে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে

`সাবাহ গার্ডেন রিসোর্ট`

বিশ্বের বিভিন্ন নামি-দামি মনীষীর অমিয় বাণী দিয়ে পুরো রিসোর্টটি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। রিসোর্টটির নাম `সাবাহ গার্ডেন রিসোর্ট`। দেশের একমাত্র রিসোর্ট এটি যেখানে রয়েছে একটি লাইব্রেরি। বিশ্বের নামি-দামি লেখকের বই রিসোর্টটিকে ভিন্ন রূপ এনে দিয়েছে। এখানে রয়েছে গ্রামের মাটির ও টিনের ঘর। ৩৬ বিঘার ওপর নির্মিত এই রিসোর্টসের বিভিন্ন লোকেশনে রয়েছে বড় বড় মনীষীদের প্রতিকৃতি। রয়েছে সৌন্দর্যমণ্ডিত কয়েকটি কটেজও। রয়েছে ৬টি ছোট-বড় পুকুর। রয়েছে বাঘ, হাতিসহ কয়েকটি প্রাণির প্রতিকৃতিও। বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, ঔষধি, বনজ গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সাবাহ গার্ডেন রিসোর্টস।

এর প্রধান আকর্ষণ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজের সমারোহ। আর এই সাবাহ গার্ডেন রিসোর্টটি প্রতিষ্ঠা করেন হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি জানান, প্রকৃতির সঙ্গে বিনোদন, বই নিয়ে ব্যস্ত থাকার চিন্তার ফসল এটি।

ভাড়া : পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা।

যেভাবে যাবেন : রিসোর্টটি বেশ পরিচিত। গাজীপুরের বাঘেরবাজার এলাকায় পৌঁছলে সহজেই এখানে আসতে পারবেন। নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘেরবাজার আসতে হবে। এখানেই রিসোর্টটি অবস্থিত।

ইউটিউবে আমাদের রান্নার সব ভিডিও দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুণ

Share.

Leave A Reply