ওজন কমাতে ডায়েট সবচেয়ে বড় ভুল!

0

ওজন কমানোর জন্যে ডায়েট করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ বেশিরভাগ ডায়েট এ পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ হয় না, মেনে চলাও অনেক কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদি ফল লাভ হয় না। কিছু সময়ের জন্য ওজন কমলেও দেখা যায় যে পুনরায় আগের খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যাওয়ার ফলে শরীরের ওজন ও আগের পর্যায়ে চলে যায়। তাই মেদ কমাতে ডায়েট নয় বরং জীবনযাপন এর কিছু পরিবর্তন ও কিছু নিয়ম অনুসরণ করেই আপনি আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন । আজ তাহলে জেনে নেই সেই কৌশল গুলো কী।

১। বেশি করে পানি পান করুন

আমাদের শরীরের কোষীয় কাজকে পরিচালনার জন্য পানি অপরিহার্য। কারণ শরীরের চর্বিকে পুড়িয়ে শক্তিতে পরিণত করা ও পরিবহন করার কাজটি করে পানি। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ক্ষুধা কমে যায়। শরীরের ওজনের দুই পাউন্ড এর জন্য এক আউন্স পানি পান করা প্রয়োজন অর্থাৎ একজন মানুষের ওজন যদি ২০০ পাউন্ড হয় তাহলে তাকে রোজ ১০০ আউন্স পানি পান করতে হবে। তাই আপনার ডেস্কে ২০ আউন্স এর একটি পানির বোতল রাখুন এবং দিনে ৫ বার এটি পূর্ণ করুন।

২। বেশি করে প্রোটিন খান

মেদ কমানোর জন্য প্রোটিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রোটিন শরীরের মাংসপেশিকে ক্যালরি ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সহায়তা করে এবং আপনাকে তৃপ্ত রাখে যার ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে। প্রতিদিন একজন মানুষের এক পাউন্ড বডিওয়েট এর জন্য এক গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। পেশীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড এর যোগান দেয় প্রোটিন। তাই প্রোটিন এর চাহিদা মেটাতে লাল মাংস, মাছ, দুধ ও কুসুম সহ ডিম খান।

৩। অনেক বেশি হেলদিফ্যাট খান

চর্বি কমানোর জন্য অনেক বেশি চর্বি খেতে হবে। Matarazzo র মতে, শরীরের চর্বি কমানোর জন্য ক্যালরি কমানো প্রয়োজন কিন্তু স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ বাদ দেয়া যাবেনা। পাকস্থলীতে চর্বি ভাঙ্গতে অনেক সময় লাগে এবং এটা রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে যা ক্ষুধা কমিয়ে আপনাকে তৃপ্ত রাখতে সহায়তা করে।তাই রোজ চর্বিযুক্ত মাছ, বাদাম ও বীজ , জলপাই তেল, নারিকেল তেল ইত্যাদি গ্রহণ করুন।

৪। পর্যায়ক্রমে কার্বোহাইড্রেড গ্রহণ করু

নিউট্রিশন এক্সপার্ট এবং ফর্মার বডিবিল্ডার Chris Aceto র মতে, আপনার ওজন যদি ২০০ পাউন্ড হয় তাহলে প্রথম কয়েকদিন ২০০ গ্রাম শর্করা গ্রহণ করলে পরের কয়েকদিন ৪০০ গ্রাম শর্করা গ্রহণ করুন। এই ভাবে পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে কমিয়ে শর্করা গ্রহণ করতে হবে। শর্করা চর্বি কমিয়ে পেশীর গঠনে সহায়তা করে । শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে বিভিন্ন রকমের ফল( আপেল, আঙ্গুর, কলা,স্ট্রবেরি ইত্যাদি ), শাকসবজি, আলু, বাদামী চাল ইত্যাদিতে প্রচুর ফাইবার ও ভিটামিন থাকে যা আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ও আপনাকে স্লিম হতে সহায়তা করে।

৫। সিঁড়ি দিয়ে হাঁটুন

আপনার বাসায় অথবা অফিসে লিফট বা এ্যালিভেটর এর পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। ছোট্ট এই কাজটি করলে আপনার ক্যালরি কমবে।

৬। থেমে থেমে খাবার গ্রহণ করুন

একবারে বেশি না খেয়ে কয়েক বার এ খান। মাঝে মাঝে উপবাস করতে পারেন। উপবাস করলে চর্বি কমে ও ওজন কমতে সহায়তা করে।এছাড়াও উপবাস করলে ইনসুলিন এর নিঃসরণ বাড়ে ফলে গ্লুকুজের ভারসাম্য রক্ষা হয় এবং পেশীতে ফ্যাট এর চেয়ে পুষ্টি উপাদান এর সরবরাহ বৃদ্ধি পায়।

৭। রাতের ঘুম প্রয়োজনীয়

শিকাগো ইউনিভারসিটির কিছু গবেষক তাদের গবেষণায় খুঁজে পেয়েছেন যে, ৬০% লোকের ক্ষেত্রে ঘুম কম হলে চর্বি কম পোড়ে এবং পেশীর গঠন কমে যায়। রাতের বেলায় মানুষ যখন গভীর ঘুমে থাকে তখন গ্রোথ হরমনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায় । ঘুম কম হলে গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ কম হওয়ার ফলে মাংস পেশীর গঠন বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

৮। চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন

বেশি পরিমাণে চিনি খেলে তা শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা হতে থাকে। সফট ড্রিঙ্কস ও জুস না খেয়ে কাঁচা ফল খান, চা বা কফি খেতে পারেন।

৯। ফাস্ট ফুড খাওয়া কমিয়ে দিন

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, বার্গার ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালরি থাকে। তাই এইগুলু যত কম খাবেন তত ভালো। এগুলুর পরিবর্তে প্রচুর সালাদ খাওয়ার অভ্যাস করুন।

Share.

Leave A Reply