খাদিজার ফিরে আসা, ইমরানের মুখে হাসি

0

যখন ঘটনা ঘটল, যখন বদরুল আলমের চাপাতির আঘাতে ধুলোমাটিতে লুটিয়ে পড়লেন খাদিজা আক্তার নার্গিস, তখন সময় ছিল বড্ড বেশি অনিশ্চিত। খাদিজাকে ঘিরে ছিল অনিশ্চিত সব প্রশ্ন। খাদিজা কি ফিরতে পারবেন? এমন প্রশ্নে স্বয়ং চিকিৎসকরাও শোনাতে পারেননি আশার বাণী! তাদের কণ্ঠ ছিল দোলাচল, নিরাশায় ঘেরা।

সেই খাদিজা ‘যমের সঙ্গে লড়ে’ ফিরেছেন মৃত্যুর মুখ থেকে। সুস্থ হয়ে আপনালয়ে ফেরার ক্ষণ গুনছেন নিয়ত। নৃশংসতার চাপাতির আঘাতে মিলিয়ে যাওয়া হাসিও ফিরেছে খাদিজার মুখে। হাস্যোজ্জ্বল খাদিজা নিজের মুখেই বলছেন, ‘আমি ভালো আছি।’

খাদিজা সুস্থ হচ্ছেন, শিগগিরই ফিরবেন বাড়িতেও। ইমরান কী ভাবছেন? ইমরান কবির! যাঁর চোখেমুখে এখনো কৈশোরের ছাপ। কৈশোরসুলভ উচ্ছলতা এখনো ফুরিয়ে যায়নি ইমরানের ভাবনার জগৎ থেকে। বদরুলের চাপাতির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে নিথর খাদিজা যখন সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে লুটিয়ে পড়েন, তখন সাহসিকতার অনন্য প্রতীক হয়ে এগিয়ে যান ইমরান কবির। নিয়ে যান হাসপাতালে। এরপর তো সবই জানা।

লড়াই করে খাদিজার ফিরে আসা আর বাড়ি ফেরার ক্ষণ গণনার খবর শুনে স্বভাবসুলভ উচ্ছলতা ইমরানের কণ্ঠে, ‘গত কয়েক বছরের মধ্যে এটা আমার জন্য সবচেয়ে ভালো সংবাদ, খুশির সংবাদ। অসম্ভব রকমের ভালো লাগছে।’

ইমরান বলেন, ‘দু-তিন আগেও খাদিজা আপুর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তাকে বলেছি, ভয় পাবেন না, আমরা সবাই আপনার জন্য দোয়া করছি। ওনার বাবার সঙ্গে কদিন পরপর কথা হয়। মাঝে ঢাকায় গিয়ে হাসপাতালে খাদিজা আপুকে দেখে এসেছি।’

খাদিজার বাড়ি ফেরার মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষায় ইমরান কবির। বাড়ি ফিরলেই ইমরান ছুটে যাবেন খাদিজার সঙ্গে দেখা করতে, ‘খাদিজা আপু কবে বাড়ি ফিরবেন, সেই অপেক্ষায় আছি। উনি বাড়ি ফিরলেই ওনাকে দেখতে যাব।’

ইমরান কবিরের কণ্ঠে সব বর্বরতা আর নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও শোনা গেল। ইমরান বলেন, ‘দেশে অহরহ বর্বরতা ঘটছে। সব ঘটনা ফোকাসে আসে না। খাদিজা আপুর ঘটনায় ভিডিও থাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তবে দেশে যেখানে যত বর্বরতা ঘটছে, সব ঘটনাকে বড় করে দেখা উচিত, সব ঘটনার প্রতিবাদ জানানো উচিত। শুধু একটি ঘটনা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। খাদিজা আপুর পরিবারের যে ক্ষতি হয়েছে, দেশে যেখানে যাদের ওপর বর্বরতা ঘটছে, তাদেরও এ রকম ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য সব বর্বরতার প্রতিরোধ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

আমাদের স্মৃতিতে খুব সহজেই ধুলো পড়ে, ঝাপসা হয়ে যায় মানসপট। স্মৃতির কবর খুঁড়ে খাদিজার ঘটনা না হয় আরেকবার মনে করা যাক।

গত ৩ অক্টোবর। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে। পরীক্ষা শেষে যখন মায়ের নীড়ে ফিরে যাবেন, তখন এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত শিক্ষার্থী বখাটে বদরুল আলমের চাপাতির কোপ পড়ে খাদিজার ওপর। রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন খাদিজা। ঠিক ওই সময় খাদিজার সাহায্যে এগিয়ে আসেন ইমরান কবির। আরো দু-তিনজনের সাহায্যে নিয়ে যান ওসমানী হাসপাতালে। সেখান থেকে সেদিন রাতেই খাদিজাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। আজ অবধি সেখানেই চিকিৎসাধীন খাদিজা।

Share.

Leave A Reply