আদরের সোনামণিকে চুমু অবশ্যই দেবেন তবে তুলতুলে ঠোঁটে কিন্তু আর নয় !

0

শিশু লালন-পালন সহজ কাজ নয়। শিশুকে আদর করতে গিয়ে কখনও কখনও আমরা এমন কিছু করে থাকি যা শিশুর স্বাস্থের জন্য ঝুঁকিপূণ। অনেক শিশুকে আদর করতে গিয়ে ঠোঁটে চুমু খান বা শিশুর ঠোঁটের সঙ্গে নিজের ঠোঁট স্পর্শ করেন, এটি শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। যা কখনওই ঠিক নয়।

 সদ্যজাত শিশুর ক্ষেত্রে, আপনার সমস্ত মনোযোগই তার স্বাস্থ্যের ওপরই থাকে। আপনার সন্তানের সঠিক দেখাশোনার জন্য আপনি নিদ্রাহীন রাত কাটাতেও প্রস্তুত থাকেন সবসময়। আপনি যখন শিশুকে এতোটাই ভালবাসেন, তাহলে মা-বাবা হিসাবে আরও একটি জিনিস আপনাকে জেনে রাখতে হবে। কখনোই আপনার শিশুকে ঠোঁটে চুমু দেবেন না বা অন্য কোনও অতিথিকেও করতে দেবেন না।

এটা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়, কারণ চুমুর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু রোগ-জীবানু ছড়িয়ে পরতে পারে। মনে রাখবেন, একজন শিশুদেহের ইমিউনিটি সেই সবকিছুর মোকাবিলা করে উঠতে পারে না, যা একজন প্রাপ্তবয়স্কের ইমিউনিটি করতে পারে।

আসুন এবার আমরা জেনে নেই শিশুদের ঠোঁটে চুমু দেয়া কেন ঠিক নয়?

* চুমু দেয়ায় একজনের স্যালাইভা বা লালা আরেকজনে মধ্যে চলে যেতে পারে। আর এভাবেই নির্দিষ্ট কিছু রোগ একজনের থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পরে। একজন শিশুর ইমিউনিটির মোকাবিলা করতে না পারায়, বিপদ আরও ভয়ানক হতে পারে।

* ই বি ভি একধরণের হারপিস ভাইরাস, যা চুমুর মাধ্যমে ছড়ায়। এ ভাইরাস সম্পর্কে সবথেকে চিন্তার কারণ হলো, এই ভাইরাস মানুষের শরীরের ভেতরে আজীবন থেকে যায়।

* চুমু করার পর যদি শিশুটির জ্বর, গলা ব্যাথা, ক্লান্তি এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে হতে পারে এটা চুমু থেকে ছড়ানো কোনও রোগের ফল। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া অবশ্যই প্রয়োজন।

* চুমুতে ছোটদের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে যেতে পারে। উপসর্গের মধ্যে গলাব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা এবং গা-হাত-পা ব্যথা থাকে।

* সাইটোমেগালো ভাইরাস, ছোট করে বললে এই রোগকে সি এম ভি বলা হয়ে থাকে। স্যালাইভা বা লালার মাধ্যমে এই রোগ ছড়িয়ে থাকে এবং এটি সুপ্ত বা সক্রিয় অবস্থায় বহু বছর ধরে শরীরে রয়ে যেতে পারে।

* ভাইরাল মেনিনজাইটিস একধরণের সংক্রামক রোগ এবং এটি শরীরের সব অংশে প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বর, বমবমি ভাব, কাঁপুনি, বিভ্রান্তি, গলাব্যথা ও মাথাব্যথা এর কয়েকটি উপসর্গ। শুধু এক চুমুতেই এ রোগ ছড়ায় এবং শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।

Share.

Leave A Reply