৪ ধাপে বাচ্চা সামলে করুন ঘরের কাজ

0

বাড়িতে যখন থাকে ১ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশু, তখন তাকে চোখে চোখে রাখাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় কাজ। প্রশ্ন হলো, সংসারের বাকি কাজ কীভাবে হবে? চারটি সহজ ধাপ অনুসরণ করে গুছিয়ে নিন দৈনন্দিন কাজগুলো, আপনার সোনামণিও থাকুক প্রাণোচ্ছল।

তালিকা তৈরি করুন

কাগজ-কলম হাতে নিয়ে সারাদিনে কী কী কাজ করবেন তার একটি তালিকা করে নিন। এভাবে বড় কাজগুলোর জন্য বাড়তি সময় এবং পরিকল্পনা করার সুযোগ পাবেন আর ছোটখাটো কাজগুলো ফাঁকে ফাঁকে সেরে ফেলতে পারবেন। কোন কাজগুলো বেশি জরুরি তাও বুঝে নিতে সহজ হবে।

একটি করে কাজ শেষ করার পর তালিকা থেকে তা কেটে রাখতে ভুলবেন না যেন। বাচ্চাদের আগ্রহী করে তুলতে এই দায়িত্ব তাদের দিতে পারেন।

বাচ্চাদের সাহায্য নিন

আপনি যখন কাজে ব্যস্ত তখন ছোট্ট সোনামণি কি করছে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তো থাকবেই। চিন্তা এড়াতে তাকেও দিয়ে দিন কোনো কাজ। বয়সে ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তাদের খেলনা গুছিয়ে রাখার নির্দেশ দিন। ৫-৬ বছর বয়সী বাচ্চারা অনেক কিছুই বোঝে, রান্নার সময় তাদের সাহায্য নিন। যেমন শাক-সবজি বেছে দেয়া, সেদ্ধ ডিম কিংবা পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানো, ধুয়ে শুকানোর পর থালাবাসন জায়গামত রেখে আসা—এসব টুকটাক কাজ বেশ আগ্রহের সঙ্গেই করবে তারা।

বড় কাউকে পাশে রাখুন

যে কোনো কাজ যতোই মজার হোক না কেন, বাচ্চাদের আগ্রহ হঠাৎ করে চলে যেতে পারে। মনে রাখবেন, তারা শিশু। কিন্তু কাজ যখন শুরু করেছেন, শেষ তো আপনাকেই করতে হবে। তাই বাড়িতে রাখুন এমন কোনো সাহায্যকারীকে যে আপনার বাচ্চাকে সে দেখে রাখতে পারে। তাহলে নিশ্চিন্তে আপনি কাজটুকু সারতে পারবেন।

কাজ শেষ হলে কিছুটা সময় বাচ্চাকে দিতে ভুলবেন না যেন, ঐ সময়টুকু আপনার সাহায্যকারীকে ছুটি দিয়ে দিন।

হতাশ হবেন না

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ না হলে হতাশ হবেন না। বাড়িতে বাচ্চারা থাকলে তাদের জন্য অনেক কিছুই ছাড় দিতে হয়।

আপনি যদি কর্মজীবী হন, তাহলে ছুটির দিনগুলোতেই আপনার যাবতীয় কাজ সারতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে সব কিছু করা হয়ে উঠবে না, তাই মন খারাপ না করে বাকি কাজটুকু রেখে দিন পরের সপ্তাহের জন্য। বড় ধরনের কোনো কাজ থাকলে চেষ্টা করুন তা কয়েক সপ্তাহে ভাগ করে নিতে।

মনে রাখবেন

চোখের পলকেই একদিন বড় হয়ে যাবে আপনার ছোট্ট সোনামণি, তখন আপনার হাতে ঘরের কাজের জন্য থাকবে অনেকটা সময়। তাই এখন অস্থির না হয়ে চেষ্টা করুন সন্তানের শৈশবের মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে। কাজকে বানিয়ে ফেলুন পারিবারিক কোনো খেলা। সবাই মিলে হাত লাগান, এতে সম্পর্কও ভাল হবে।

Share.

Leave A Reply