মার্কিন ডায়েটেশিয়ানের দৃষ্টিতে শিশুর জন্য সেরা খাবার কী?

0

শিশুর জন্য মায়ের দুধ সবচেয়ে ভালো খাবার। শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গে মায়ের দুধ দিতে হবে এবং প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত এ খাবারই একমাত্র খাবার থাকবে। তবে ছয় মাস বয়স থেকে মায়ের দুধের সঙ্গে অন্যান্য খাবারও দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সে কোন খাবার হবে শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো? এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।

ছয় মাস বয়সী শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার কোনটি হতে পারে? এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুকে দেওয়া যেতে পারে রাইস সেরিয়াল ও মায়ের দুধের মিশ্রণ। এটি বানানোর উপায় জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সায়োসেটে কর্মরত রেজিস্টার্ড ডায়েটেশিয়ান ও পুষ্টিবিষয়ক বইয়ের লেখক ক্যারেন অ্যানসেল।

ক্যারেন জানান, এ খাবারটি হওয়া উচিত গলা ভাত ও মায়ের দুধ মেশানো একটি খাবার। এটি শিশুর হজমে সহায়ক। এ ছাড়া এ খাবার অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া থেকেও মুক্ত থাকে।

তিনি বলেন, ‘শিশুর বহু দশক ধরেই এ ধরনের খাবার খেতে পারে এবং তা তারা খুব সহজেই হজম করতে পারে। আর এ কারণে এটি শিশুর প্রথম খাওয়ার হওয়ার যোগ্য।’

শিশুর যে পুষ্টিগুলো প্রয়োজন, তাও এ খাবারে মেটানো সম্ভব। যেমন শিশুর আয়রন ও জিংক প্রয়োজন। ছয় মাস বয়সে মায়ের দুধের আয়রন স্বাভাবিকভাবে কমতে থাকে। আর এ সময় মায়ের দুধের পাশাপাশি শুরু করা যেতে পারে এ ধরনের খাবার। শিশুর জন্য মায়ের দুধ এ বয়সে খাওয়ানো বজায় রাখতে হবে। তবে পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্যই রাইস সেরিয়াল দেওয়া উচিত।

‘লিটল ফুডি : বেবি ফুড রেসিপিস ফর বেবিস অ্যান্ড টডলার্স উইথ টেস্ট’ বইয়ের সহলেখক ক্যারেন অ্যানসেল তাদের বইতে এ বিষয়টিই তুলে ধরেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে মায়েরা আগের মতো বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়াতে চান না। এ ধরনের রাইস সেরিয়ালের জনপ্রিয়তা এখন কমে গেলেও এটিই হওয়া উচিত শিশুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার।

তবে চালে আর্সেনিক থাকতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও শিশুখাদ্যে আর্সেনিকের এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী হতে পারে? এ প্রসঙ্গে অ্যানসেল বলেন, আর্সেনিকের ঝুঁকি থাকলেও চাল পুরোপুরি বাদ দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে আপনার দিনে তিনবার শিশুকে রাইস সেরিয়াল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত করতে হবে।

রাইস ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের দানাদার খাবার যেমন ওট, বার্লি, কুইনোয়া ইত্যাদিও কিছু কিছু করে দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া পরবর্তীতে ধীরে ধীরে শিশুকে ডিম, সবজি ইত্যাদি খাবারও দিতে হবে।

Share.

Leave A Reply