পৃথিবীর যে জায়গায় মানুষের প্রবেশ নিষেধ

0

মানবজাতি পারে না এমন কিছু নেই এই ব্রহ্মাণ্ডে। মানুষ তা অনেক আগেই প্রমাণ করে দিয়েছে। মহাকাশে পাড়ি থেকে পর্বত জয়, এই সব তার জলজ্যান্ত উদাহরণ।

কিন্তু এই পৃথিবীর বুকে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে খোদ মানুষের প্রবেশ নিষেধ। কোন সেই জায়গা, যেখানে আপনি হাজার চেষ্টাতেও যেতে পারবেন না, জেনে নিন।

CAইস্ট রেনেল – সালোমন দ্বীপপুঞ্জ
এই জায়গাটি ওয়ার্ল্ড ইউনেসকো হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষিত। তবে এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ। এর পিছনে কারণ হল, এখনও নাকি এখানে দৈত্যরা বসবাস করে ও নরমাংস ভক্ষণ করে।

নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড – আন্দামান
এটি বঙ্গোপসাগরে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জেরই একটি দ্বীপ। চারদিকে প্রবাল। এই দ্বীপের আয়তন প্রায় ২৮ বর্গ কিলোমিটার। সেখানে রয়েছে সেন্টিনেলিজ়দের রাজত্ব। আধুনিক সমাজ থেকে হাজার হাজার কালোমিটার দূরে। এক ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ফিল্ম ডিরেক্টার ১৯৭৫ সালে এই উপজাতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তারপরই ১৯৯৬ সালে ভারত সরকার সেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

ল্যাজ়কক্স কেভস্ – ফ্রান্স
দক্ষিণ ফ্রান্সে অবস্থিত এই গুহায় রয়েছে বিভিন্ন পশুর ছবি। সম্ভবত প্রায় কুড়ি হাজার বছরের পুরোনো। মার্কেল রাভিদাট নামে এক ১৮ বছরের যুবক এই গুহার প্রবেশদ্বার আবিষ্কার করেন ১৯৪০ সালে। তিন বন্ধুর সঙ্গে রাভিদাট আবিষ্কার করেন গুহার মধ্যে এই আকর্ষণীয় ছবিগুলি। তাঁরা স্থানীয় অথরিটিকে বিষয়টি জানায়।

১৯৪৮ সালে এই গুহাটি জন সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে গুহায় মানুষের প্রবেশের ফলে ওই ছবিগুলি কার্বনডাইঅক্সাইডের সংস্পর্শে আসে ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বেশ কিছু ছবি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই ১৯৬৩ সাল থেকে সেই গুহায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।

মেট্রো-২ – মস্কো
মস্কোর তলদেশে রয়েছে একটি মেট্রো সিস্টেম। যদিও এটি তার আনুষ্ঠানিক নাম নয়। কোড নাম D-6। জোসেফ স্তালিন নামে এক ব্যক্তি এটির নির্মাণ করেন। FSB-এর হেডকোয়াটারের সঙ্গে যুক্ত।

B8EApfইসে গ্রান্ড শাইন – জাপান
জাপানে অবস্থিত ইসে গ্রান্ড শাইন একটি পবিত্র মন্দির। সূর্য দেবীকে উৎসর্গ করে নির্মিত এই মন্দির। শুধুমাত্র পুরোহিত বা ধর্মযাজকই সেই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন। তবে তাঁকে জাপানি রাজ পরিবারের সহদ্য হতে হবে। মন্দিরের বাইরেটা ছাড়া আর কিছুই দেখার অনুমতি নেই সাধারণ মানুষের।

ইলহা দা কুয়েইমাডা গ্রান্ডে – ব্রাজ়িল
ব্রাজ়িলের সাও পাউলো উপকূলবর্তী এলাকাকে বলা হয় সাপের দ্বীপ। সেখানে এতই সাপের বাসা যে পা ফেলারও জায়গা নেই। একাধিক প্রজাতির সাপ রয়েছে এখানে। একমাত্র বিজ্ঞানী ও গবেষকরা ছাড়া সাধারণ মানুষের সেখানে যাওয়ার অনুমতি নেই।

পোভেগ্লিয়া – ইট্যালি
ভেনিস ও লিডোর মধ্যে রয়েছে এই ছোটো দ্বীপ। বহু বছর আগে এই জায়গাটিতে মানুষের আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে এলে শারীরিক অসুস্থতার শিকার হতে হয়, যার ফলে শীঘ্রই মৃত্যু হয়। প্রায় এক লক্ষ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। সেই থেকেই সেখানে মানুষ যাওয়া বন্ধ করেছে।

2176ইস্টার আইল্যান্ড – চিলি
প্রশান্ত মহাসাগরের উপর রয়েছে এই দ্বীপ। এর আরেক নাম রাপা নুই। দূরবর্তী ও নির্জন এলাকায় অবস্থিত বলে জায়গাটিকে চিলির অংশ বলে মনে করা হয় না। পৃথিবীর আদিম সভ্যতা আজও সেখানে বিরাজ করছে।

Share.

Leave A Reply