আরেকটু দেরিতে বাচ্চা নিতে চান? তাহলে আপনার প্রজনন স্বাস্থ্যের যত্নের এই নিয়মগুলো মেনে চলুন।

0

বিয়ের সাথে সাথেই তো আর বাচ্চা নেয়া যায় না। স্বামী-স্ত্রী দুজনের ক্যারিয়ার, ভাল পোস্টিং, অথবা নিজেদের আর্থিক অবস্থা গুছিয়ে নেয়া ইত্যাদি নানা কারণেই প্রথম বাচ্চা নিতে একটু দেরি হতেই পারে। অন্যদিকে আপনার যদি ইতিমধ্যেই একটি বাচ্চা হয়ে থাকে, দ্বিতীয় বাচ্চা নেবার আগে নিশ্চয়ই চাইবেন অন্তত বছর তিনেক গ্যাপ দিতে।

কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় দীর্ঘ গ্যাপের পরে প্রেগন্যান্ট হতে ঝামেলা হচ্ছে। এর কারণ এই বিরতির সময়ে প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে খেয়াল না রাখা।

আপনি যদি কোন কারনে আরেকটু দেরিতে বাচ্চা নিতে চান, তাহলে এই সময়ে আপনার সন্তান ধারণের ক্ষমতা অটুট রাখার জন্য এই ৫টি টিপস ফলো করে চলবেন।

সঠিক জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি যদি সঠিক না হয় তাহলে এটা ধীরে ধীরে আপনার প্রজনন তন্ত্রকে অকেজো করে তুলতে পারে। বাচ্চা দেরীতে নিতে চাইলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো কনডম ব্যবহার করা এতে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। যদি পিল খেতে চান তাহলে সেটা যেন স্বল্পমাত্রার হয় এটা খেয়াল রাখতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদী ইনজেকশন ব্যবহার না করাই ভালো হবে। ইমার্জেন্সি কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল যেন না খেতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এসব পিলের অতিরিক্ত ব্যবহার প্রজনন তন্ত্রের উপর খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে।

কিগেল এক্সারসাইজ

কিগেল এক্সারসাইজের সাথে আমরা তেমন পরিচিত নই। তলপেটের মাসলগুলোকে কিগেল মাসলও বলা হয়। তলপেটের পেশীগুলোকে সামর্থ্যবান রাখতে কিগেল এক্সারসাইজ করা খুবই উপকারী। এই এক্সারসাইজ জরায়ু বড় হয়ে যাওয়া রোধ করতে পারে। এটা যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় করতে পারেন। যখনই আপনি সময় পাবেন এটা করার চেষ্টা করতে পারেন। এটা আর কিছুই না তলপেটকে ভিতর দিকে চাপানো আর ছেড়ে দেয়া। খুবই সহজ একটি এক্সারসাইজ। প্রস্রাব চেপে রাখার জন্য আপনি যেভাবে তলপেটের পেশি চেপে রাখছেন, ঠিক সেভাবেই। প্রতিদিন ১০ মিনিট কিছুক্ষণ পর পর এটা করতে পারলে তা প্রজননতন্ত্রের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য খুব ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে। তলপেটের ভিতরের পেশীগুলো শক্ত সামর্থ্য রাখতে এ এক্সারসাইজের আর কোনো জুড়ি নেই।

ধূমপান পরিহার

ধূমপান বিষপান। শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হওয়া সত্ত্বেও অনেকে ধূমপান করে থাকেন।গর্ভধারণের জন্য ধূমপান প্রতিকূল অবস্থা তৈরি করে, এমনকি এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির জন্য ধূমপান দায়ীঅনেক ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পর ডিম্বাশয় থেকে জরায়ুর দিকে না আসতে পারার ফলেঅনেক সময় ডিম্বাশয় বা ডিম্বনালীতেই ভ্রূণ বেড়ে উঠতে থাকে এবং এর যথাযথ চিকিৎসা না হলে সেইনারীর ভয়াবহ বিপদ হতে পারে। এ ধরণের প্রেগন্যান্সি টেকানো যায় না। সিগারেটের ক্ষতিকারক উপাদানডিম্বনালীকে অমসৃণ করে দেয় যার ফলে ডিম্বাণু ডিম্বাশয় থেকে জরায়ুতে আসতে পারে না, সেখানে আটকেযায়। নারী যদি দেরিতে বাচ্চা নিতে চান তাহলে অবশ্যই তার ধূমপান থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রজনন তন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ডিম্বাশয় ও ডিম্বনালী। ধূমপান যেহেতু এদেরকে অসুস্থ করে দেয় তাহলে কেন ধূমপান করবেন?

জাঙ্কফুড এড়িয়ে চলা

জাঙ্কফুড সব সময়ই এড়িয়ে যাওয়া ভালো। কিন্তু অনেক সময় মুভি দেখা বা অবসর সময় কাটানোর সময়জাঙ্কফুড খাওয়া হয়ে যায়। এটা সচেতন ভাবে বাদ দিতে হবে। জাঙ্কফুডে খুব বেশী চিনি আর ফ্যাট থাকে যাশরীরে অপ্রয়োজনীয় মেদ জমিয়ে দেয়। আর নারীদের জরায়ুতে মেদ জমে গেলে এটা বাচ্চা ধারণে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন জরায়ুকে সুস্থ রাখতে চাইলে এ ধরণের খাবার এড়িয়ে যেতে হবে।

ওজন এবং খাবার

ওজন বেশী থাকলে গর্ভাবস্থার সময় ডায়বেটিস ও উচ্চরক্তচাপ এসে হানা দেয়। পরিণতিতে নানা জটিলতা দেখা দেয়। দেরীতে মা হতে চান এমন নারীদের উচিত জীবন যাপনের একটি ভালো পদ্ধতি অনুসরণ করা। কোনো মাদক বা ধূমপান থেকেও বিরত থাকতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সকাল-বিকাল হাটা, বা জিমে যাওয়া যেতে পারে। সাঁতার কাটা শরীরের ফ্লেক্সিবেলিটির জন্য অনেক ভালো। সেই সাথে খেতে হবে সুষম খাবার। প্রয়োজনে একজন ডায়েটেশিয়ানের কাছ থেকে খাদ্য তালিকা তৈরি করিয়ে নিয়ে সে অনুযায়ী খাবার খাওয়া যেতে পারে। রাতের বেলার পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের অনেক স্ট্রেস কমিয়ে দিতে পারে। প্রতিদিন অন্তত আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। মনে রাখতে হবে, পুরো শরীর সুস্থ রাখার ভিতর দিয়েই প্রজনন তন্ত্রও সুস্থ রাখতে পারবেন আপনি।

পরিশিষ্ট

একটি পরিবার সমঝোতা আর নিয়মতান্ত্রিকতার ভিতর দিয়ে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সব বিষয়েই পরিকল্পনা করে কাজ করলে এর ফলাফল সবার জন্য ভালো হয়। বাচ্চা নিতে যদি একান্তই দেরী করতে হয় সেটা মাথায় রেখে নিজের শরীরের এ যত্নগুলো করা নারীর অবশ্যই কর্তব্য। নতুবা সময় চলে গেলে পরে চাইলেও আর কনসিভ করা সম্ভব হয়ে উঠবে না, এটা মনে রাখবেন। যেকোনো কিছুরই যত্ন দরকার, তেমন আপনার প্রজনন তন্ত্রেরও। সুন্দর শরীর আর সুন্দর মন দিয়েই নিজের সন্তানকে স্বাগতম জানান পৃথিবীতে। শুভকামনা!

বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি রান্নাঘরে।

Share.

Leave A Reply