বউ চুরি উৎসব কোথায় হয় জানেন ?

0

সে এক বিচিত্র উৎসব। বাৎসরিক এ উৎসবে পুরুষেরা নানা সজ্জায় নিজেকে সাজান নারীর চোখে আকর্ষণীয় হতে। কারণ এখানেই নারীরা যৌনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন পছন্দের পুরুষকে। এমনকি নিজের স্বামীকে রেখেই অন্যপুরুষকে সঙ্গী হিসেবে বাছাই করার অধিকার রয়েছে বিবাহিত নারীদের। এমন কথা শুনে পৌরাণিক যুগের স্বয়ংবর সভার কথা মনে পড়ছে? উৎসবে খানিকটা সাদৃশ্য রয়েছে, তবে এ উৎসব বর্তমানের। সঙ্গী, স্বামী কিংবা খণ্ডকালিন যৌনসঙ্গী নির্বাচনে প্রায় স্বয়ংবর সভার মতই স্বাধীনতা উপভোগ
করেন উড্যাব উপজাতির নারীরা।

যৌনজীবনে একেবারেই স্বাধীন এ উপজাতির নারীরা। বিয়ের আগে খুশীমত যৌনসঙ্গী খুঁজে নিয়ে পরিবারের অনুমতি কিংবা সামাজিক রীতি মেনেই যথেচ্ছা যৌনাচারের স্বাধীনতা রয়েছে তাদের। রয়েছে যতজন খুশী ততজন স্বামীকে বিয়ে করার। উড্যাব উপজাতির ধারণা, বিশ্বের সকল জাতি ও উপজাতির মধ্যে তারাই সুদর্শন।

পুরুষদের রূপচর্চা এবং নিজেকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হয় নারীদের কাছে নিজের যথাযথ উপস্থাপনের জন্যই। নিজের সাজ সজ্জা পরিপাটি রাখার উদ্দেশ্যে সকল পুরুষই বয়ে বেড়ান আয়না। কখন কোন নারীর নজরে পড়েন, তার তো ঠিক নেই! আর তাই নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে গুছিয়ে নেন এক পলকে।

পুরুষ শাসিত বৈশ্বিক বর্তমানে এমন কাহিনী শুনতে রূপকথা মনে হলেও নিজেদের ঐতিহ্য এবং রেওয়াজ আজ অবধি বজায় রেখেছে উড্যাব উপজাতি। সাহেল মরুভূমিতে মূলত এই যাযাবর নিগ্রো উপজাতির বসবাস। এছাড়া ক্যামেরুন, মূল আফ্রিকা রিপাবলিক, চাঁদ, নাইজেরিয়ায় দেখা মেলে গর্বিত উড্যাবদের। মাসের পর মাস তারা হেঁটে এসে বসত গড়ে কোন একটা জায়গায়। মেতে ওঠে গান, নাচ, মদ এবং উৎসবে।

প্রায় সাতদিন ও সাত রাত ধরে চলে তাদের আপাত স্থিরতার এ আনন্দ। অবশ্য বর্ষার শেষে সেপ্টেম্বরের
আশায় ক্যালেন্ডারে আটকে থাকে এ উপজাতির সকলের, বিশেষত যৌনক্ষমতা প্রাপ্ত পুরুষ ও নারীদের।সেপ্টেম্বরেই অনুষ্ঠিত হয় কাঙ্খিত উৎসব ‘গেরেওল’, যেখানে নারীর মন জয় করে নিতে উৎসুক থাকে প্রাপ্ত বয়স্ক সকল পুরুষ।

এ উৎসবে যোগ দিতে দূর দূরান্ত থেকে একত্রিত হয় উড্যাব উপজাতির সকল সদস্য। অবশ্য কোথায় হবে ‘গেরেওল’, তা গোপন থাকে উৎসবের ক’দিন আগে পর্যন্ত। এমন উৎসবের শুরুটাও হয় জাঁকজমকপূর্ণ নাচ ‘ইয়াক’এর মাধ্যমে। এই নাচে নিজেকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন পুরুষেরা। নাচের বিচারক হিসেবে থাকেন অভিজ্ঞ তিন নারী, যাদের বিচারে বিজয়ী নাচিয়ে পুরুষরা খুব সহজেই হয়ে যান আকাঙ্খিত নারীর যৌনসঙ্গী। সাদা দাঁত, উজ্জ্বল চোখ এবং সরু নাক উড্যাব উপজাতির পুরুষদের সৌন্দর্য্যের অংশ। তাই লাল মাটি লেপে চেহারা সাজিয়ে ঠোঁটে কালো রং মাখেন পুরুষরা, যাতে দাঁতগুলো অারও ঝকঝকে লাগে।

নাকের উপর আঁকেন সাদা দাগ। আর মাথায় পালক, পুঁতি, পাথর, কাপড়, চামড়া ইত্যাদি দিয়ে তৈরি গহনা ও বিশেষ পোশাক। শরীরের উর্দ্ধাঙ্গে তেমন কিছু রাখেন নানিজের শারীরিক সামর্থ্য প্রকাশের
উদ্দেশ্যে। তবে নিচের দিকে খানিকটা লুঙ্গির মত দেখতে পোশাক থাকে। নতুন না হলেও পরিষ্কার সে লুঙ্গির সঙ্গে থাকেমানানসই কোমড়বন্ধ। চেহারা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকে রং দিয়ে আঁকা কিংবা স্থায়ী ট্যাটু। এই ট্যাটু অনেক সময় তার পেশা, বীরত্ব, পছন্দ, শখ ইত্যাদি প্রকাশ করে।

উড্যাব উপজাতির রমনীদের অবশ্য উৎসবে অংশগ্রহণের পোশাক নিতান্তই সাধারণ। দৈনন্দিন ট্যাটু আঁকা থাকে মুখে ও শরীরে। কানে এক বা একাধিক ভারী পাথরের গহনা। তবে এই পাথর যে দামী হতে হবে, তা নয়। বউ চুরি হয়ে যাবে, অন্য পুরুষকে পছন্দ করে চলে যাবে তার হাত ধরে- তাই অনেক পুরুষ নিজের বউকে উৎসবে আসতে দেয়না। আবার অনেক জুটি ভালোবাসার কারণেই একে অন্যকে ছেড়ে চলে যায় না। অবশ্য নারীর যথেচ্ছা যৌনাচার তাদের ভালোবাসায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না। যে পুরুষ সর্বোচ্চ সংখ্যক নারীর মন জয় করে তৃপ্ত করেছেন শরীরি খেলায়, উড্যাব উপজাতি সমাজে তিনি সম্মানীয় মানুষ।
ধারণা করা হয়, তিনি যৌন দেবতার আশীর্বাদপ্রাপ্ত। এমনই একজন ব্যক্তি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত ৩০ জন বউ চুরি করেছি।

অন্যের বউ চুরি করা সহজ নয়। একজন নারী তোমার রূপে ও কাজ কর্মে মুগ্ধ হয়ে তার সন্তান তোমায় দেবে- এমনি এমনি? একজন উড্যাবই জানে- কিভাবে নারীকে সম্মোহিত করতে হয়’। এমনযৌনাচার সভ্য সমাজ অনুমোদন দেয় না- এমন কথায় তার প্রতিক্রিয়া, ‘কেন? নারী তো ঈশ্বরের ক্ষমতা নিয়েই পৃথিবীতে আছে। সন্তান ধারণ ও জন্মদান একমাত্র নারীর ক্ষমতা। এই ক্ষমতাকে সম্মান জানাবেন না? উড্যাব জানে, কিভাবে নারীকে এবং নারীর ইচ্ছাকে সম্মান করতে হয়।’

Share.

Leave A Reply