থায়রয়েড গ্রন্থিতে সমস্যা, বুঝে নিন ১০ লক্ষণে

0

সব সম ঘুম ঘুম লাগে? ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না? মাথাটা ঝিম ঝিম করে বলে মনে হয়? সম্ভবত আপনি কোনো ক্রনিক রোগে ভুগছেন যা ধরা পড়েনি। আমেরিকায় এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ হাইপোথায়রোডিজমে ভুগছেন। যেখানে বিপাক্রিয়ায় অংশ নেওয়া থায়রয়েড গ্রন্থি ঝিমিয়ে কাজ করে।

আপনার গলার নিচেই প্রজাপতির মতো এক গ্রন্থি থায়রয়েড। এটি দেহের দুটো গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপন্ন করে যা দেহের কয়েকটি জরুরি কাজে অংশ নেয়। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তি উৎপাদন এবং খাবার হজমের কাজ করে। আবার হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি এবং ত্বকের নানা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বছরের জানুয়ারি আমেরিকার জাতীয় থায়রয়েড সচেতনতা দিবস হিসাবে পালিত হয়। চিন্তার বিষয় হলো, অধিকাংশ মানুষ তার থায়রয়েডের সমস্যা শনাক্ত করতে পারেন না। এর বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। এগুলো জেনে নিন।

১. সব সময় ক্লান্ত আপনি : জেগে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। সারাক্ষণ ক্লান্তি লাগে। এক ধরনের অবসাদ ভর করে। এগুলো বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যগত অবস্থার লক্ষণ হলেও হাইপোথায়রোডিজমের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কম থায়রয়েড যখন নিঃসৃত হয় তখন রক্ত এবং কোষ সারাদেহে প্রবাহের নির্দেশ সঠিকভাবে পায় না। এতে ঘুম ঘুম বোধ হয়।

২. কম খেয়েও স্থুল হচ্ছেন : এ সমস্যায় আক্রান্তদের বিপাকক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। বাসাল মেটাবলিক রেট বা বিএমআর কমে আসে। বিপাক্রিয়ার হার কমে এলে অনেকেই মোটা হতে থাকেন। একই খাবার খেয়ে অন্যদের কিছু না হলেও থায়রয়েড সমস্যায় আক্রান্তরা স্থুলকায় হতে থাকেন।

৩. ভুলে যান : আজ কিছু করার ছিল। কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছেন না। এর কারণ ঘুমের অভাব, হতাশা এবং বয়স বৃদ্ধি হতে পারে। কিন্তু থায়রয়েড সমস্যার কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। হরমোন গ্রন্থির সুষ্ঠু কাজের অভাবে নিউরনের কর্মপ্রক্রিয়ায় ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এতে মাথায় রাখা তথ্য সহসা মনে করা যায় না।

৪. কোলেস্টরেলের মাত্রা বৃদ্ধি : স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় হয়তো দেহে কোলেস্টরেলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া ধরা পড়েছে। কিন্তু থায়রয়েড গ্রন্থির স্বাস্থ্য দেখা হয়নি। কোলেস্টরেলের উপাদান বের হয়ে যেতে বাধা প্রদান করে হাইপোথায়রোডিজম। ফলে দেহে ক্ষতিকর এলডিএল এবং ট্রিগ্লাইসিরাইডস-এর পরিমাণ বেড় যায়।

৫. যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া : থায়রয়েডে সমস্যা হলে যৌনইচ্ছা কাজ করে না। কারণ এ গ্রন্থির সঙ্গে অ্যান্ড্রিনাল গ্রন্থির সম্পর্ক রয়েছে। এটি সেক্স হরমোন যা আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করে। কিন্তু থায়রয়েড কমে গেলে অ্যান্ড্রিনালও কমে যায়।

৬. বিষণ্নতায় ভোগা : এটা প্রাথমিক লক্ষণ না হলেও, হাইপোথায়রোডিজমের কারণে বিষণ্ন হয়ে পড়ে মন। যেহেতু থায়রয়েড দেহের চঞ্চলতা ধরে রাখে, তাই এর অভাবে আপনিও যে বিষণ্ন হয়ে পড়বেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

৭. শুষ্ক ত্বক : ময়েশ্চারাইজেশনের যাবতীয় ব্যবস্থা রাখার পরও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের চেহারা এবং সৌন্দর্য মলিন হয়ে যায় থায়রয়েডের অভাবে। এতে ত্বকে রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ ভাগের এক ভাগ কমে যেতে পারে। ফলে ত্বকের মসৃণতা নষ্ট হয় এবং শুষ্ক হয়ে যায়।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্য : খুবই অস্বস্তিকর এক অবস্থা। এমনকি চিকিৎসকের সঙ্গেও আলোচনা করতে অনেকে লজ্জাবোধ করেন। বিপাকক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে না চললে হজমে গোলযোগ দেখা দেয়। এ ছাড়া অন্ত্রনালীর মাধ্যমে মল দ্রুত এগোতে পারে না। হজমের এই ধীরগতির কারণ হতে পারে যথেষ্ট থায়রয়েডের ঘাটতি। এ সময় কলা বা ফাইবারসমৃদ্ধ ফল মল সহজে বের হতে সহায়তা করতে পারে।

৯. পেশীতে কালসিটে : উষ্ণ পানিতে গোসল করে বা হাজারো ম্যাসাজ করেও পেশী শিঁথিল করা যায় না। বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ শক্তি উৎপন্ন করে। কিন্তু থায়রয়েডের অভাবে বিপাক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এতে দেহ যে প্রক্রিয়ায় শক্তি পোড়ায় তাতে বিশৃঙ্খলতা লেগে যায়। আর এতে দেহের পেশীর অনুভূতি ভিন্নতর হয়ে যায়। পেশী শক্ত হয়ে যায়। মনে হয়, জমাট বেঁধে গেছে। পরিত্রাণ পেতে হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।

১০. বেশি বেশি শীত লাগে : এমনকি গরমের সময়ও শীত অনুভূত হয়। থায়রয়েড দেহে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। হাইডোথায়রোডিজম দেহে সামান্য পরিমাণ থায়রয়েড উৎপন্ন করে। এ কারণে কম পরিমাণ শক্তি ক্ষয় হয়। এতে তাপ উৎপন্ন হয় না। ফলে দারুণ শীত লাগতে পারে। সূত্র : ইয়াহু

Share.

Leave A Reply