যৌনজীবনে অপরিপূর্ণতাই মানসিক সমস্যার কারণ

0

নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যে তরুণ-তরুণীরা মানসিক সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞের কাছে আসেন, তাদের সবাই যৌন জীবনে বিপর্যস্ত। কোনো না কোনোভাবে তাদের যৌন চাহিদা পরিপূর্ণতা পায় না। পরিকল্পিত গর্ভধারণে সমস্যা, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ ও যৌনবাহিত রোগের প্রকোপে তাদের জীবনটা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে পড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইয়ুথ মেন্টাল হেলথের ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স বিভাগের বিশেষজ্ঞ এবং ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের প্রফেসর ড. ব্রায়ান ও’ডনোগে এবং তার সহকর্মীরা জানান, বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকাল এমন এক সময় যখন মানসিক অবস্থা এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া যৌনতার ক্ষেত্রেও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারেন তারা। তবে এ বিষয়ে খুব বেশি গবেষণা এখন পর্যন্ত পরিচালিত হয়নি।

এ গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণের দিকে দৃষ্টি দেন। এ সমস্যায় জর্জরিতরা মেলবোর্নের ইয়ুথ মেন্টাল হেলথ এর অরিজেন ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্সে যোগ দেন। এদের সবার বয়স ১৫-২৪ বছরের মধ্যে। সাইকোসিস, পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার এবং মুড ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা নিতে আসেন তারা। বিশ্লেষণের জন্য তাদের প্রশ্নের তালিকা দেওয়া হয়। তাদের বিশ্লেষণে ব্রিফ  সাইকিয়াট্রিক রেটিং স্কেল (বিপিআরএস) ব্যবহার করা হয়। সেখানে অংশ নেন ১০৩ জন তরুণ-তরুণী। এদের সবাই মানসিক সমস্যা ভুগছেন।

গবেষণায় দেখা যায়, ৭৮ শতাংশের যৌনকর্মের নানা অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর এদের প্রথম সেক্স শুরু হয় ১৬ বছর বয়স থেকে। এদের অর্ধেক জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এদের এক-চতুর্থাংশ যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত। এক-চতুর্থাংশ গর্ভবতী হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ গর্ভধারণ ছিল অপরিকল্পিত।

এদের দুই-তৃতীয়াংশ সেক্সের সময় অ্যালকোহল পান করেছেন। আর ৪৩ শতাংশ খেয়েছিলেন গাঁজা। মোট ৩৯ শতাংশ মানসিক সমস্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। যৌন জীবনে নানা ঝামেলায় পড়েন। এ নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা লাভ করেন তারা।

গবেষকরা বলেন, তরুণরা মানসিকভাবে সমস্যা পড়লে তাদের যৌন জীবনটাও সুষম হওয়া উচিত। কিংবা যৌন জীবনে পরিপূর্ণতা না এলে মানসিকভাবে এলোমলেো হয়ে যেতে পারেন। তরুণদের এসব সমস্যা দূর করতে তারা এক বিশেষ স্ক্রিনিং ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।

গবেষণাপত্রটি ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল আর্লি সাইকোসিস অ্যাসোসিয়েশন এ প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Share.

Leave A Reply