ডায়েটেই ত্বক ভালো রাখুন বারোমাস

0

প্রতিদিন পার্লারে গিয়ে করাচ্ছেন পার্ল ফেসিয়াল, দামী দামী ফেসপ্যাক লাগাচ্ছেন, তবুও চেহারায় এতটুকুও জেল্লা ফিরছে না! তাহলে আজই এইসব বন্ধ করুন আর পুরো নজরটা দিন আপনার ডায়েটে৷প্রতিদিনের মেনুতে সামিল করুন বিশেষ কিছু খাবার৷ দু সপ্তাহেই বুঝতে পারবেন নিজের পাল্টে যাওয়াটাকে৷ তবে রোজই যে এই প্রতিটা খাবার খেতে হবে, তা নয়, তবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ৬-৭টা রান্নায় ব্যবহার করতেই হবে চটজলদি ফল পেতে-

১)লাল ক্যাপসিকাম

লাল ক্যাপসিকাম খেতে বেশ সুস্বাদু৷ তাই এটা কাঁচা বা রান্না করে খেতে পারেন৷ দুটোতেই বজায় থাকবে পুষ্টিগুণ৷এতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন সি ও বি ৬ রয়েছে৷উপরন্তু এর মধ্যে থাকা কারোটিনয়েডস চামড়াকে অকালে কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়৷ত্বকও থাকে টানটান৷ত্বকের রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখতে আর ব্রণর মতো অস্বস্তিকর সমস্যার মোকাবিলায় লাল ক্যাপসিকামের জুড়ি মেলা ভার৷এতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে৷ তাই ছোট ছোট টুকেরা করে উপরে একটু নুন ছড়িয়ে খেতে পারেন লাল ক্যাপসিকাম৷

২) ডার্ক চকোলেট

এটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েডস আর ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিপূর্ণ৷ আর এই প্রতিটি পুষ্টি উপাদানই ত্বককে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ জেল্লাদার করে তুলতে অব্যর্থ ভূমিকা নেয়৷স্কিনের খড়খড়ে, রাফ ভাবটা দূর করে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, কোকো ত্বকের ছিদ্রগুলো খুলে দিয়ে রক্তসঞ্চালনের প্রক্রিয়াকে রাখে স্বাভাবিক৷তাই প্রতিদিন এক আউন্স করে ডার্ক চকোলেট রাখুন আপনার স্ন্যাক্সে৷

৩)স্যামন

অবসাদ, দুশ্চিন্তার সঙ্গে লড়তে স্যামন মাছের বিকল্প পাওয়া ভার৷কারণ এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রিংকল্স, ব্রণ বা অতিরিক্ত ফোলার হাত থেকে আমাদের ত্বককে অনেকাংশে বাঁচায়৷এছাড়াও প্রতিদিন স্যামন মাছ খেলে মাথার ত্বকে বজায় থাকে ঠিকঠাক আর্দ্রতা, ফলে মজবুত হয় চুলের সৌন্দর্যও৷

৪)নারকেল তেল

স্যাচুরেটেড ফ্যাটের অন্যতম প্রধন উৎস নারকেল তেল৷এর মধ্যে থাকা লউরিক অ্যাসিড শরীরকে ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে৷ফলে চট করে কোনও ত্বকের সংক্রমণ বা সমস্যা হয় না৷এছাড়াও নারকেল তেলে থাকা এসেনসিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বককে রাখে কোমল৷

৫) গ্রিন টি

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আর অ্যামাইনো অ্যাসিডে ভরপুর এক কাপ গ্রিন টি প্রতিদিন বিকেলে খেতে পারলে ত্বক থাকবে আকর্ষণীয় সুন্দর৷শরীরকে স্ট্রেস ফ্রি রাখতেও সাহায্য করে৷ আর মনে দুশ্চিন্তা না থাকলে চেহারাতেও তা ছাপ ফেলতে পারবে না৷ তবে যাদের অ্যানিমিয়ার সমস্যা রয়েছে, তারা গ্রিন টি খাবেন না৷

৬) পালংশাক

প্রতিদিন তরকারি করে না খেতে পারলে, পালংশাকের জ্যুসও রোজ একবার করে খেতে পারলে লাভবান হবেন আপনি নিজেই৷প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কী নেই এতে! আর ত্বক ভালো রাখতে এগুলো সবই কমবেশি আমাদের জরুরি৷ এছাড়া নিয়মিত পালংশাক খেলে ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার হয়৷

৭) বীজ

সূর্যমুখী বা কুমড়োর বীজ রোজ অল্প অল্প করে ভেজে খেলে সেটাও ত্বকের জন্য দারুণ উপকারি৷এগুলোতে থাকে সেলেনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ই৷এগুলো ত্বককে যেমন শুষ্কতার হাত থেকে বাঁচায়, তেমনই অকালে দাগ বা ভাঁজ পড়তে দেয় না৷

৮) পেঁপে

বারোমাসই চলতে পারে পেঁপে৷ সে তরকারি করে খান বা ফল হিসেবে৷অন্যান্য ফলের তুলনায় এতে ফ্রুক্টোজ কম থাকে, আর ক্যালোরিও কম৷থাকে ভিটামিন সী-ও৷ শীতকালে কড়া সূর্যের আলো থেকে ত্বককে বাঁচাতে ভিটামিন সি খুবই কার্যকরী ভূমিকা নেয়৷ তাছাড়া পেঁপেতে থাকা ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে রাখে সজীব৷

৯) গাজর

গাজরে থাকা ভিটামিন এ ত্বকের কোষগুলোকে ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করে৷স্যালাডে রাখুন বা জ্যুস করে খান প্রতিদিন একটা করে ছোট গাজর ডায়েট চার্টে মাস্ট মাস্ট মাস্ট৷

Share.

Leave A Reply