দোপেয়ে বাছুর!

0

জন্ম নেওয়ার পর গৃহকর্তা ধারণা করেছিলেন যে এটি বাঁচবে না। প্রথম পাঁচ দিন চেষ্টা করেও দাঁড়াতে পারেনি সেটি। এখন চলাফেরার চেষ্টা করছে। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের কোনা বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবর রহমানের একটি গাভি দুই পায়ের একটি বাছুরের জন্ম দিয়েছে। বাছুরটির বয়স এখন ১৬ দিন।

জন্ম নেওয়ার পর বাছুরটির বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে এখন সেটি সুস্থ। দুই পায়ের এই বাছুরটিকে দেখতে মজিবর রহমানের বাড়িতে এখন মানুষের ভিড় লেগেই আছে।

আজ শুক্রবার মজিবর রহমানের (৬৫) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শরীরের অস্বাভাবিকতা নিয়েও বাছুরটি চলাফেরার চেষ্টা করছে।
গাভির মালিক মজিবর রহমান বলেন, ‘দুই পায়ের ওই বাছুরটিসহ এখন আমার সাতটি গরু হয়েছে। গাভিটি আমার বাড়ির পোষা। এই গাভির এর আগে তিনটি বাছুর হয়েছিল। ওই তিনটি এঁড়ে বাছুর ছিল। দুটি বিক্রি করেছি, একটি আছে। সেগুলো স্বাভাবিক ছিল। এটাই ব্যতিক্রম। তবে এটিও এঁড়ে বাছুর।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম, দুই পা নিয়ে জন্ম নেওয়া বাছুরটি বাঁচবে না। তবে এখন পর্যন্ত বাছুরটি সুস্থ আছে। জন্মের পর প্রথম পাঁচ দিন বাছুরটি দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও পারেনি। ছয় দিন পর থেকে দাঁড়াতে শুরু করছে। এখন নিজের পায়ে চলাচলও করছে। তবে এটিকে ধরে দুধ খাওয়াতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বাছুরটির জন্মের পর থেকে এটিকে দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসছে। এরই মধ্যে বাছুরটির জন্মের তিন-চার দিন পর গাভির সমস্যা হয়েছিল। দুধের বদলে বাঁটে রক্ত আসছিল। পরে স্থানীয় কবিরাজের চিকিৎসায় ভালো হয়েছে। এখন যেটুকু দুধ হচ্ছে, এর পুরোটাই বাছুরকে খাওয়ানো হচ্ছে। তবে বাছুরটির অস্বাভাবিকভাবে জন্মের ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

মজিবর রহমানের ছেলে সোলেমান আলী (২৫) বলেন, দুই পায়ের বাছুরটি জন্ম নেওয়ার পর ওই বাছুরসহ গাভিটি এক লাখ টাকায় এক ব্যক্তি কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা বিক্রি করেননি।

বাছুরটি দেখতে আসা ভোগডাবুরী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সিরাজ উদ্দিন (৫০) বলেন, ‘তিন পায়ের গরু-ছাগলের কথা শুনেছি, পাঁচ পায়েরও কথা শুনেছি, কিন্তু আজকে দুই পায়ের বাছুর প্রথম দেখলাম।’

ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পাটোয়ারি পাড়া গ্রামের তাজুল ইসলাম (৪০) বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে প্রথমে বিশ্বাস করিনি। এখন দেখছি বাছুরটি স্বাভাবিকভাবেই চলছে।’

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) মো. শাহজালাল খন্দকার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, জিনগত সমস্যার কারণে বাছুরটি এভাবে জন্ম নিয়েছে। বাছুরটি এখন সুস্থ থাকায় আশা করা যায় কোনো সমস্যা হবে না। তবে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

Share.

Leave A Reply