সাজিয়ে তুলুন আপনার ঘরকে: প্রবেশ পথ ও ড্রয়িংরুমের সাজসজ্জা

0

একটা সময় ছিল যখন মনে করা হত ভারী পর্দা, বিশাল মখমলের সোফাসেট, মোটা গালিচা, বিরাট কারুকার্যমণ্ডিত খাট না থাকলে গৃহসজ্জাই সম্ভব নয়। সেসব দিন এখন ইতিহাস।  গৃহসজ্জার মূল লক্ষ্য হল- কোজি আর কমফোরটেবল পরিবেশ তৈরি করা যেন সেখানে ইজি হওয়া যায়। গৃহসজ্জা বিষয়ক ধারাবাহিক লেখার আজ প্রথম পর্বে আমি বলব প্রবেশপথ ও ড্রয়িংরুমের সাজসজ্জার খুঁটিনাটি বিষয়।

আপনার অন্দর মহলের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও রুচিপূর্ণ ঘর  আপনার বসার ঘরটি। কেননা, মেহমান এসেই এই ঘরটিতে বসবেন এবং আপনাকে ও আপনার রুচির বিচার করবেন প্রধানত এই ঘরটি দেখেই। তার আগে আসুন ঘরের প্রবেশপথ নিয়েও একটু আলোচনা হয়ে যাক।

প্রবেশপথের সাজসজ্জা

আপনার বাড়িতে আগত অতিথি কলিংবেল বাজিয়ে কিছুক্ষণ হলেও আপনার দরজার সামনে অপেক্ষা করেন, তাই নয় কি? এই সময়টুকুতেই কিন্তু তিনি আপনার বাড়ির সম্পর্কে একটা ধারণা করে নেন। যেমন চিন্তা করুন, ময়লাওয়ালাকে ময়লা দেবার পর যদি কেউ ময়লার বালতি বা ঝুড়িটা দরজাতেই রাখেন, তবে কেমন হবে? বাজে গন্ধ আর দৃশ্যের অবতারণা হবে। তাই আমাদের কর্তব্য বাড়ির প্রবেশ পথটিকেও সুন্দর রাখা। তার মানে কিন্তু এই নয় যে আমি পুরা দরজা একেবারে সাজিয়ে রাখব। দরজাটা পলিশ ও রঙ করে রাখা, দরজার পাশে ফুলের বা অরনামেনটাল গাছ রাখা যেতে পারে। আপনার নিজ হাতে বানানো কিছু হ্যান্ডিক্র্যাফটের জিনিস দরজায় ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। এতে আপনার নিজস্বতাও নিঃসন্দেহে প্রকাশ পাবে।

ফয়ারের সাজসজ্জা

Capture

প্রথমেই আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ফয়ার কী? আমরা বাড়িতে প্রবেশ করার সাথে সাথেই নিশ্চয়ই কোন স্পেসিফিক ঘরে ঢুকে পড়িনা, তাইনা? দরজা খুলে বাসায় ঢুকি,একটা কমন জায়গায় এসে দাঁড়াই, জুতাটা খুলে শু র‌্যাকে সাজিয়ে রাখি বাড়িতে পরার চটিটা পায়ে দেই। এরপর যে ঘরে যেতে চাই, সেই ঘরে যাই। এই জায়গাটাকেই বলে ফয়ার। ফয়ারটা যদি সুসজ্জিত হয়, বাসায় ঢুকেই আমাদের মনটা ভালো হয়ে যায়। ফয়ারকে নানা ভাবে সাজানো যেতে পারে। বাড়িতে ঢুকেই একটা সুন্দর পেইন্টিং চোখে পড়লে কার না ভালো লাগে? পেইন্টিং বা সুন্দর একটা ছবি বড় করে ওয়ালে টানিয়ে রাখতে পারেন। শু কেসের উপরে বা দরজার কোণায় একটা ফুলের বা গাছের টব জায়গাটার চেহারা পালতে দিতে পারে। ছোট্ট সুন্দরএকটা পাপোশ রাখতে পারেন ঘরে ঢোকার পথেই। একটা ছোট্ট ঝুড়িতে রাখতে পারেন কিছু টাটকা বেলি বা শিউলি ফুল। সুন্দর নরম একটা পাপোশ রাখতে পারেন ঘরে ঢুকতেই।

ড্রয়িংরুমের সাজসজ্জা

এবার আসি ড্রয়িংরুমের সাজসজ্জায়। আপনি হয়ত ভাবতে পারেন ড্রয়িংরুমের সাজসজ্জা অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। তা কিন্তু একদমই নয়। কিছু সহজ পন্থা অবলম্বন করলেই আপনার বাড়ির ড্রয়িংরুমটি হয়ে উঠতে পারে সবার চেয়ে আলাদা।

  • বারান্দা লাগোয়া ড্রয়িংরুম থাকলে মোটেও ভারী পর্দা দেবেন না এদের মাঝখানে। আলোকে আসতে দিন আপনার ঘরের অন্দরে। আপনার মনটাই ভালো হয়ে যাবে সারাদিনের জন্য।
  • গরমের সময় ভারী কার্পেট একদমই ব্যবহার করবেন না। দেশি ম্যাটেরিয়ালের তৈরি ছোট পাতলা নকশাদার কার্পেট আপনার ড্রয়িংরুমে আনতে পারে বৈচিত্র্য।
  • ভারী সোফাসেটের বদলে বেতের বা কাঠের অথবা বেতির তৈরি সোফাসেট, টেবিল রাখুন।
  • সোফার কাভার বা কুশন কাভারে জবরজং নকশা একদমই ভালো দেখাবে না। হালকা কাজ বা একরঙা কাভার ব্যবহার করুন।
  • ঘরের কোণে তাকিয়া আর কুশন রাখতে পারেন। ওটাই হয়ে উঠতে পারে আপনার পরিবারের অবসরের আড্ডার জায়গা। বা বিকালের চা পানের আসর।
  • ওয়াল ক্যাবিনেট বানাতে পারেন। হালকা শো পিস বা অ্যান্টিকের পিস রাখতে পারেন। কিন্তু এতো বেশিও রাখবেন না যে ড্রইংরুমকে ওভারডান মনে হয়।
  • ফুলদানিতে ফুলের সাথে কিছু ডাল পাতাও রেখেই দেখুন না। ফুলের সৌন্দর্য দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
  • দেয়ালে হালকা রঙ লাগালে ঘর বড় দেখায়। তবে আপনি যদি বিশেষ কোন দেয়ালে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চান, (যেমন সুন্দর একটি ছবি বা পেইন্টিং বা একটি ফ্যামিলি ফটো) তবে ঐ দেয়ালে আপনার পছন্দ মত গাঢ় কোন রঙ দিতে পারেন ।
  • ঘরের কোণায় পাতাবাহার রাখুন। সেন্টার টেবিলে ছোট্ট ফুলের টব বা বনসাই রাখতে পারেন।
  • এয়ার ফ্রেশেনার না ব্যবহার করে টাটকা সুগন্ধি ফুল একটা ছোট্ট ঝুড়িতে রাখুন। তফাতটা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।
  • ঘরের একটি ফোকাস তৈরি করতে পারেন। যেমন বিশাল একটা পেইন্টিং বা বড় একটা অ্যান্টিকের মূর্তি। তবে ফোকাস তৈরি করতে চাইলে আশেপাশে এমন কোন জিনিস রাখবেন না যেটা ফোকাসকে ডিস্টার্ব করে। তাহলে দর্শকের দৃষ্টি এক জায়গায় না থেকে অস্থিরভাবে ঘুরাফেরা করবে, যা ঘরের ব্যাল্যান্সকে নষ্ট করবে।
  • একেক দেয়ালে একেক রঙ বা ওয়াল আর্ট এখন খুবই অন। তবে ঠিকমতো রঙ চুজ করাটা ভীষণ জরুরী। না হলে ঘরটা উলটা আরও বেশি খারাপ দেখাতে পারে। একটা কালার স্কিম মেনে কাজ করা খুব দরকার। যেমন কমলার বিভিন্ন শেড বা প্রাইমারী কালারস ইত্যাদি।
  • বেশি জিনিস রেখে বা সাজসজ্জা করে ঘরকে জবরজং বানাবেন না। মনে রাখবেন, এখনকার ট্রেনড এটাই যে কম জিনিসে খুব কোজি আর কমফরটেবল এনভায়রনমেন্ট তৈরি করা, যাতে লোকজন জায়গাটাকে সহজেই আপন করে নিতে পারে।
  • শো পিস বা পেইন্টিং গুলোতে স্পট লাইট দিতে পারেন। অন্য পর্বে লাইটিং  নিয়ে বিস্তারিত বলা হবে।
  • যদি একদমই আলাদা আমেজ চান, তবে ড্রইংরুমের ফ্লোরটা বা একটা ওয়াল কাঠের করে ফেলুন। একটা গাছের গুড়ি এনে ওটাকেই বানিয়ে ফেলতে পারেন আপনার সাইড টেবিল। পুরো ন্যাচারাল লুক চলে আসবে আপনার ড্রইংরুমে।
  • সর্বোপরি আপনার ড্রইংরুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে রাখুন। এতে আপনার মনও ভালো থাকবে আর সবাই যখন প্রশংসা করবে, দেখবেন আপনার কত ভালো লাগে।

বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি রান্নাঘরে।

Share.

Leave A Reply