আব্দুল গফুরের আকুতি “আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাবো”

0

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর ইউনিয়নের কুটিচন্দ্র খানার জকার হাট গ্রামের মৃত খইমুদ্দিনের ছেলে প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক আব্দুল গফুর আলী মুন্সি (৮০)। লাঠিতে ভর দিয়ে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেন তিনি। তাই ওই গ্রামের কিছু সচেতন ব্যক্তি আঃ গফুরের করুন পরিনীতি দেখে গ্রামে চাঁদা তুলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে একটি ট্রাই সাইকেল কিনে দেন।

বর্তমানে সেই ট্রাই সাইকেল চড়ে আঃ গফুর তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা বিবিকে সঙ্গে নিয়ে ভিক্ষা বৃত্তি করে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত জীবন যাপন করে। তবে আব্দুল গফুরের অভাব অনটন নিত্য দিনের সঙ্গী। এ যেন দেখার কেউ নেই।

এভাবে কেউ চলতে পারে না। কি নির্মম পরিনীতি তাদের। তারা বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী মিলে অনেক পুরাতন একটি ট্রোই সাইকেলে করে উপজেলার থেকে দৈনদিন ১৫-২০ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী বালার হাট বাজার, গঙ্গার হাট বাজার, খরিবাড়ী হাট, বড়ভিটা হাট আনন্দ বাজার সহ এমনকি গ্রাম গঞ্জের কাচাঁ ভাঙ্গা রাস্তা গুলো ডিঙ্গিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে যা পায় তাই দিয়ে কোন রকমে চলে তাদের সংসার। তবে যে দিন ভিক্ষা একটু বেশী মেলে সেই দিন তাদের মুখে হাসি আর যে দিন কম মেলে সে দিন কান্না ছাড়া আর কিছুই মেলে না তাদের কপালে।

ভিক্ষা বৃত্তি না করলে ছোট ছেলে-মেয়ে সহ উপবাস থাকতে হয় তাঁদের। তার ঘরে দুটি সন্তান আছে। বড় ছেলে আশরাফুল ৪র্থ শ্রেণী এবং ছোট মেয়ে আসিদা ১ম শ্রেণীতে পড়ে। বর্তমানে তাদের পরিবারের সংখ্যা ৪ জন। গফুর আলীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান তিন ছেলে দুই মেয়ে। তাদের সবার বিয়ে হয়েছে। তারা আমার খোঁজ খবর নেওয়া বন্ধ করে দেয়।

তাদের মা মারা যাওয়ার পর ছেলে-মেয়েরা আমাকে একা ফেলে বিভিন্ন জায়গায় কাজ কর্ম করে। বৃদ্ধ আঃ গফুর প্রথম স্ত্রীর ছেলে-মেয়েরা যখন খোঁজ খবর নেয় না তখন নিজেকে বাঁচার জন্য বাধ্য হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে। বাধ্য হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আসমাকে।

এখন দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা বিবির দুই সন্তানকে মানুষ করার জন্যেই এই বৃদ্ধ বয়সেই আঃ গফুর মানুষে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা বৃত্তি করে ছোট ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ চালায় অতি কষ্টে। কিন্তু বাঁচার তাগিদে ছোট ছেলে-মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে জীবনকে বাজী রেখে বৃদ্ধ বয়সে এভাবেই প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা ঘুড়ে ভিক্ষা করতে হয় আঃ গফুর আলীকে।

তিনি সমাজের কাছে প্রশ্ন করেন, বাহে মোর অভাব কি চিরদিন থাকবে? বাহে মুই কি কোন দিন বয়স্ক ভাতা পাবানং? মোর ঘড়ে দুইটা অবুঝ ছোট ছেলে-মেয়ে আছে। তাদের দিকে তাকিয়ে কি কারো মায়া হয় না। এভাবে কান্নায় অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রতিবেদককে জানান, তোমরাই কনতো বাহে?

মোর ৮০ বছর বয়স হয়েছে তাহলে আর কতো বছর হলে মুই বয়স্ক ভাতা পাইম? আঃ গফুর আরো জানান, এভাবে বছরের পর বছর ধরে চেয়ারম্যান মেম্বারের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মোর কিছুই হল না বাহে। মোর দুইটা ছোট অবুঝ ছেলে-মেয়ে আছে তাদের জীবন কি হবে আল্লাহ ছাড়া দেখার কেউ নাই।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মইনুল হক প্রতিবেদককে জানান, বরাদ্দ আসছে চিন্তার কোন কারন নেই এ বারে প্রথমেই আব্দুল গফুরের ব্যবস্থা করা হবে তার পর অন্যদের।

Share.

Leave A Reply