৮টি সুস্বাদু মাছের রান্না যা কলকাতায় আসলে আপনার অবশ্যই একবার চেখে দেখা উচিত

0

মাছ এবং বাংলার একটি দীর্ঘ ইতিহাস আছে। আসলে, মাঝে মাঝে মাছ নিয়ে চর্চা বাঙালিদের জন্য গৌরবের বিষয় হয়ে ওঠে। এই নিয়ে বাঙাল (ভারতে বসবাসকারী) ও ঘটিদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই আছে। বাংলার বাইরের অনেক মানুষেরই জানা নেই যে বাঙালদের প্রতীক ইলিশ মাছ অন্যদিকে ঘটিদের হল গলদা চিংড়ি। আপনি লক্ষ্য করবেন এই প্রতিক গুলো পতাকায় একে নিয়ে যাওয়া হয় যখনই কোনো মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল খেলা থাকে।

তবে পরিস্থিতি যাই হোক, শেষে জীত খাদ্যরসিকেরই! আপনার যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে পড়ুন এবং জানুন কিছু লোভনীয় এবং জিভে জল এনে দেওয়া রান্না যাকে ঘিরে বাঙালিরা বেচে আছে।

1. ইলিশ মাছ ভাজা

এই তালিকার সূচনা এই সুস্বাদু মাছ ছাড়া আর কি দিয়েই বা হতে পারে! কেবলমাত্র এক চিমটে হলুদ গুড়ো এবং লবণ মাখিয়ে মাছটিকে মচ-মচে করে ভাজলেই তৈরী এই লোভনীয় খাওয়ার! ইলিশ বা হিলশা হল বাংলার গর্ব। আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি যে এই সাধারণ মাছ ভাজার প্রেমে আপনাকে পরতেই হবে। আপনি এই খাওয়ারের মজা যখন খুশি এবং যেভাবে খুশি নিতে পারেন কিন্তু বর্ষাকালে খিচুরির সাথে এই মাছভাজার মেলবন্ধনের বাঙালিদের কাছে জুরি মেলা ভাড়। এই মাছ ভাজা একবার খেলে আবার চাইতে বাধ্য।

2. রুই মাছের কালিয়া

রুই ভারতের একটি প্রচলিত মাছ হতে পারে, কিন্তু বাঙালিরা যখন তাদের রান্নার জাদু দিয়ে এই মাছকে রান্না করে, তখন এই সাধারণ মাছও অতি সুস্বাদু খাদ্যে পরিনত হয়। মাছের কালিয়া হলো একটি বিশেষ প্রণালী যা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিবেষন করা হয়। সে সাধারণ বাসমতি চালের ভাত হোক কি ফ্রাইড রাইস কিম্বা পোলাউ, মাছের কালিয়া সব খাদ্যেরই মান বাড়িয়ে দেয়। এটি বিবাহের সময়, পৈতের অনুষ্ঠানে, সাধ, এবং অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানে মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশন করা হয়।

3. মৌরোলা মাছের চাটনি

যদি আপনি শুনে থাকেন বাঙালীর খাওয়ার শুরু এবং শেষ হয় মাছ দিয়ে তাহলে আপনি ঠিকই শুনেছেন। মৌরোলা মাছ খুব ছোট মাছ যা পুকুর ও নদীতে পাওয়া যায়, এবং যদিও এগুলি রান্না করার বিভিন্ন উপায় আছে, তবে শ্রেষ্ঠ আস্বাদন পাওয়া যায় তখনই যখন সঠিকভাবে এটা দিয়ে টক চাটনি বানানো হয়। আহা! জিভে জল চলে এলো!

4. মুড়িঘন্টর ডাল

হ্যাঁ, এটি একটি ডাল, কিন্তু মাছ দিয়ে রান্না করা একটি নিরামিষ ডালI এই রান্নার জন্য, মূগ ডালের সাথে রুই মাছের মুড়ো ভেজে দেওয়া হয়। একবার স্বাদ নিয়ে দেখুন, আপনি আপনার জীবনে এরকম ভাল মুগ ডালের স্বাদ আর আগে কখনো পাননি। ভাত, মুড়ি ঘন্ট দিয়ে ডাল আর একটু পাতি লেবুর রস দিয়ে মেখে খেয়ে দেখুন, মনে হবে আপনি যেন দেবতাদের প্রসাদ খাচ্ছেন।

5. ফিস ওরলি

এটা অনেকটা ফিস ব্যাটার ফ্রাই এর মত খাদ্য প্রণালী যাকে বিখ্যাত করেছে নামকরা রেস্তোরাঁ’বিজলি গ্রীল’। এটি একটি স্টার্টার, যেটা স্যালাডের সাথে পরিবেষণ করা হয়। বিভিন্ন প্রকার সামাজিক ও বিবাহ অনুষ্ঠানে এটি স্টার্টারটি বড়ই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

6. ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে পুঁইশাক্

যেখানে স্টার্টার, শেষ পাতের চাটনিতেও মাছ ঢুকে গেছে, তখন শাক-এও মাছের উপস্থিতি অনিবার্য। শাকের জন্য বাঙালিদের ভালবাসার কথা তো আমরা জানিই, পুঁইশাক হল তাদের মধ্যে অন্যতম। এই শাক রান্না করারও অন্তত 15 টি ভিন্ন উপায় আছে কিন্তু এমন বাঙালি খুব কমই আছে যারা তাদের ‘প্রিয়’ খাবারের তালিকায় ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে পুঁইশাকটি রাখবেন না।

7. ভেটকি মাছের পাতুরি

আপনি যদি ক্যালোরি নিয়ে সচেতন হন কিন্তু তা সত্ত্বেও খাঁটি বাঙালি মাছের রান্নার স্বাদ পেতে চান, তাহলে এটি আপনার জন্য একদম সঠিক। ভেটকি মাছের ফিলে সর্ষে বাটা, কাচা লঙ্কা এবং সরিষা তেলের সঙ্গে মাখিয়ে তারপর তাকে টাটকা কলা পাতার মধ্যে মোড়ানো হয়। এটা তারপর ভাপে (সাধারণত ভাতের সাথে) রান্না করা হয়। এটা এমন একটা খাবার যা আপনার মন কে চাঙ্গা পারে এবং এর মোহময়ী গন্ধে আপনার খিদে পেতে বাধ্য।

8. চিংড়ি মাছের মালাইকারি

যেখানে বাঙালরা তাদের ইলিশ পাতুরি বা ইলিশ-কালো জিরের ঝোল নিয়ে গর্ব করে, তেমনই ঘটিদের কাছে এই রান্না গর্বের। সাধারণত গলদা চিংড়ি, নারকোল এবং নারকোলের দুধ দিয়ে তৈরি হয় এই খাবারটি, যা মত্স্যপ্রেমী দের জিভে এক অবর্ণনীয় অনুভুতি জাগায়। এমনকি যদি আপনি মাছ অপছন্দও করেন তাহলে এটার একবার স্বাদ নিয়ে দেখুন, আপনি অবশ্যই মত্সপ্রেমী হয়ে উঠবেন।

Share.

Leave A Reply